Bartaman Logo
৩১ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কোন শহরে কত পুকুর ভরাট, তালিকা তৈরি করছে প্রশাসন, জমি হাঙরদের দাপট, জলাশয়ের চরিত্র বদলে গড়ে উঠেছে বহুতল

এবার জমি হাঙরদের চিহ্নিত করতে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। কোন শহরে কত পুকুর ভরাট হয়েছে, সেই তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।

কোন শহরে কত পুকুর ভরাট, তালিকা তৈরি করছে প্রশাসন, জমি হাঙরদের দাপট, জলাশয়ের চরিত্র বদলে গড়ে উঠেছে বহুতল
  • ৩১ মে, ২০২৬ ০৪:০০

সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: এবার জমি হাঙরদের চিহ্নিত করতে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। কোন শহরে কত পুকুর ভরাট হয়েছে, সেই তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। অবৈধ এই কাজের পিছনে কাদের মদত রয়েছে সেটাও তারা খতিয়ে দেখছে। সেক্ষেত্রে পুরসভা বা পঞ্চায়েতের ভূমিকা কী ছিল, তাও আধিকারিকদের স্ক্যানারে রয়েছে। এক আধিকারিক বলেন, আশ্চর্যজনকভাবে দেখা যাচ্ছে জলাশয় খাতায় কলমে বাস্তু করে দেওয়া হয়েছে। তারমানে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরও এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত। তা না হলে এভাবে রেকর্ড পরিবর্তন হতে পারে না। আধিকারিকরা কেন এধরনের কাজ করেছিলেন, তা তদন্ত করে দেখা হবে। ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর খোলনলচে বদলে দেওয়া হবে।

Advertisement

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমান শহরে বেশ কয়েকটি পুকুর ভরাট হয়ে গিয়েছে। ভোটের আগেও কয়েকটি পুকুর ভরাটের চেষ্টা করা হয়েছিল। জমি হাঙররা অভিনব কায়দায় এই কাজ করেছে। প্রথমে তারা পুকুরের পাড়ের একাংশ আবর্জনা ফেলে ভরাট করে। বেশ কিছুদিনের কসরতে তারা পুকুর ভরাট করে। বর্ধমানের একটি বড়ো বিল ভরাট করার উদ্যোগ নিয়েছিল তারা। শহরের বাসিন্দাদের প্রতিরোধে অবশ্য তারা পিছু হটে। কংগ্রেস নেতা গৌরব সমাদ্দার বলেন, পুকুর রক্ষা করার জন্য আমরা বহুদিন ধরে লড়াই করছি। কিন্তু সেইসময় শাসকদলের নেতারা এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তাদের মদতেই একের পর এক পুকুর ভরাট হয়ে গিয়েছে। সেই সময় প্রশাসনও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। 
বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র বলেন, যারা পুকুর ভরাট করেছে তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোথায় কোথায় পুকুর ভরাট করা হয়েছে, সেই হিসাব আমরা নিচ্ছি। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, শুধু বর্ধমান নয়, সব শহরেই জলাশয় ভরাট হয়েছে। কালনাতেও প্রভাবশালীদের মদতে বড়ো জলাশয় ভরাট করা হয়েছে। বেশিরভাগ পুকুর ভরাট করে বহুতল তৈরি করা হয়েছে। প্রভাবশালীরা যুক্ত থাকায় এতদিন কেউ মুখ খোলার সাহস দেখাত না। বর্ধমান পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশচন্দ্র সরকার বলেন, আমরা অনেক পুকুর ভরাট আটকেছি। ভরাট হয়ে যাওয়া অংশ থেকে মাটি তোলা হয়েছে। আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, সারা রাজ্যজুড়েই পুকুর ভরাট নিয়ে তদন্ত শুরু হচ্ছে। স্থানীয় পুরসভা এবং ভূমি সংস্কার দপ্তরের থেকে তথ্য নেওয়া হবে। তৃণমূলের জমানার শেষের দিকে জমি মাফিয়ারা সবচেয়ে বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছিল। শহরের পাশাপাশি পঞ্চায়েত এলাকাতেও বহু পুকুর ভরাট করা হয়েছে। বিশেষ করে শহর লাগোয়া গ্রামীণ এলাকায় এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি ছিল। এই সমস্ত এলাকাগুলিতেও জমির দাম শহরের মতোই। 

সম্পর্কিত সংবাদ