প্রশাসনের নজর এড়িয়ে ইন্দ্রনীলের আমলে টেন্ডারের অনিয়ম কীভাবে! খোঁজ শুরু করল সিট
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের ঘনিষ্ঠদের টেন্ডারের বিষয়টি তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরে কর্মরত তদানীন্তন প্রশাসনিক আধিকারিকদের কীভাবে নজর এড়িয়ে গেল, তা নিয়ে এবার খোঁজখবর শুরু করল সিট। বিভিন্ন খেলা-মেলার টেন্ডার পাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমস্ত কিছু যাচাই হয়েছিল কি না, তার নথিও এবার তলব করছে লালবাজার। পাশাপাশি পুজোর প্রিভিউ পাসে মাস আর্টের সঙ্গে দপ্তরের লোগো ব্যবহার হচ্ছে, এই বিষয়টি প্রশাসনিক কর্তাদের নজরে আসেনি নাকি প্রাক্তন মন্ত্রীর প্রভাবের কারণে তাঁরা অভিযোগ করতে সাহস পাননি, তা জানতেও তদন্ত শুরু হয়েছে বলে খবর। পাশাপাশি ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে দুটি নতুন ধারা যুক্ত করার জন্য আদালতে আরজি জানানো হচ্ছে।

Advertisement

পুজোর পাস দুর্নীতি মামলার তদন্তে নেমে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ টাকা আসার নথি পেয়েছেন সিটের সদস্যরা। এই টাকার একটা বড় অংশ যে টেন্ডার দুর্নীতি করে আসা, তা তাঁরা বুঝতে পারছেন। আর এখানেই সরকারি আধিকারিকদের ভূমিকা তদন্তকারীদের আতসকাঁচের তলায় চলে এসেছে। সিট জেনেছে, ইন্দ্রনীলবাবু মন্ত্রী থাকাকালীন তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের তরফে বইমেলা, বাইশে শ্রাবণ, সংগীত মেলা সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কিন্তু কোনো ক্ষেত্রেই নিয়ম মেনে সরকারি টেন্ডার হয়নি। তদন্তে উঠে এসেছে, প্রাক্তন মন্ত্রী আগেই ঠিক করে দিয়েছিলেন, কে বা কারা এর বরাত পাবেন। আধিকারিকরা কেবলমাত্র তা বাস্তবায়ন করেছিলেন। আইন বাঁচাতে নাম কা ওয়াস্তে একটা টেন্ডার ডাকা হয়েছিল। সেখানে অন্য সংস্থা কম দর দেওয়ার পরেও বেশি রেট দেওয়া  প্রাক্তন মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠর সংস্থাকে কাজের বরাত  পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। তদন্তে উঠে আসছে, ইন্দ্রনীলবাবু দপ্তরের আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়ে রেখেছিলেন, যাতে তাঁর ঘনিষ্ঠ কোম্পানি বাদে কেউ কাজ না পায়। তদন্তকারীদের প্রশ্ন, সরকারি কোষাগার থেকে বাড়তি টাকা বেরোচ্ছে দেখেও, তদানীন্তন আধিকারিকরা এতে বাধা দিলেন না কেন? এক্ষেত্রে তাঁরা কোনও নোট শিট দিয়েছিলেন কি না, সেটাও সিটের নজরে রয়েছে। সিটের কর্তারা জেনেছেন, দুর্গাপুজোর প্রিভিউ পাসের উপর রাজ্য সরকারের তথ্য -সংস্কৃতি দপ্তরের লোগো লাগানো হয়েছিল প্রাক্তন মন্ত্রীর নির্দেশে। তিনি দপ্তরের আধিকারিকদের বলেছিলেন, এই প্রিভিউ পাস তাঁর সংস্থা বিক্রি করছে। প্রাক্তন মন্ত্রীর দাপটের কারণে কেউ মুখ খোলার সাহস দেখাননি বলে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে। যদিও ইন্দ্রনীলবাবু তদন্তকারীদের জেরায় দাবি করেছেন টেন্ডার তাঁর ঘনিষ্ঠ কেউ পাননি। সমস্ত কিছু নিয়ম মেনেই হচ্ছে। আর কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে, প্রশাসনিক কর্তারা কেন তা দেখেননি,  এমন প্রশ্নও তুলেছেন। এদিকে মঙ্গলবার প্রাক্তন মন্ত্রীর কন্যাকে জেরার জন্য ডাকা হলেও তিনি আসেননি। আজ, বুধবার দুপুরে তাঁর আসার কথা রয়েছে।