অনিমেষ মণ্ডল, কাটোয়া: একদা চা বেচতেন স্টেশনে। এখন চোখ ধাঁধানো বাড়ি। চড়ে বেড়ান বিশাল দামি গাড়িতে। আউশগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি তৃণমূল নেতা শেখ ইমদাদুলের উত্থান যেন রূপকথা!
অনিমেষ মণ্ডল, কাটোয়া: একদা চা বেচতেন স্টেশনে। এখন চোখ ধাঁধানো বাড়ি। চড়ে বেড়ান বিশাল দামি গাড়িতে। আউশগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি তৃণমূল নেতা শেখ ইমদাদুলের উত্থান যেন রূপকথা!
একদা চুক্তিভিত্তিক কিছু কাজ করতেন লালন শেখ। কোনওমতে চালিয়ে নিতেন সংসার। এখন মেইন রাস্তার ধারে পেল্লাই বাড়ি। ছেলেকে নায়ক বানাতে বিনোদন শিল্পে লগ্নি। এলাকায় ঘুরে বেড়ান ২০ লাখি (প্রায়) থার গাড়িতে। আউশগ্রাম-২ ব্লকের তৃণমূল সভাপতি লালনের উত্থানও লজ্জা দেবে রূপকথার নায়ককে! এতদিন, মানে তৃণমূলের জমানায় পূর্ব বর্ধমানের জঙ্গলমহলে শেষ কথা ছিল ইমদাদুল-লালন। দু’জনকেই এলাকাবাসী বলতেন ‘তৃণমূলের দাবাং নেতা।’ রাজ্যে পালা বদলের পর তাঁদের এখন এলাকায় তেমন দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু, দুই নেতার উত্থান-কাহিনি ঘুরছে সবার মুখে মুখে। সবে তখন ক্ষমতায় এসেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। সময়টা ২০১১ সাল। ইমদাদুল নাম লিখিয়ে ফেলেন শাসক শিবিরে। তারপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। শুধু অতীত হয়ে যায় তাঁর ‘চা বিক্রেতা’ তকমা। ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে তৃণমূলের হোমড়া-চোমড়া নেতা। জুটে যায় অঞ্চল সভাপতির পদও। সেই সুবাদে সরকারি জায়গা দখল করে ছেলের ইঁট কারখানা গড়ে তোলেন। হুমকি, তোলাবাজিও সমানে চালিয়ে যান। এমনই অভিযোগ। এই তো ক’মাস আগে আউশগ্রামের বননবগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ দখল করে নেন স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী৷ তা নিয়ে বিস্তর জল ঘোলা হয়৷ প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষকেও নাকানিচোবানি খেতে হয়। ইমদাদুলের ইশারাতেই নাকি ওই ব্যবসায়ীরা স্কুলের জায়গা দখল করতে সাহস পেয়েছিলেন বলে অভিযোগ। আউশগ্রাম থানার মাঠে ওই নেতা ক’বছর ধরে মিলনমেলা করতেন। মেলার আড়ালে চলত জুয়া খেলা। উড়ত লক্ষ লক্ষ টাকা। সবটাই নাকি নিয়ন্ত্রণ করতেন ওই নেতা। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলছেন, দল ও পঞ্চায়েতের সব পদই ওই নেতার বাড়িতেই থাকত। কেউ মুখ খোলার সাহস পেত না। সাংবাদিকদেরও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল৷ এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, ইমদাদুলের এমন কর্মকাণ্ড জঙ্গলমহলের মানুষ মেনে নেননি। এবার ভোটে শিক্ষা দিয়েছেন। বিজেপির আউশগ্রামের ৪ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি সুদীপ্ত মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘ওই নেতার জায়গা দখল থেকে সব কীর্তিই এখন তদন্তের আওতায় আনা হবে।’ লালনের উত্থানও ঠিক একই পথে। ২০১১ সালে বীরভূমের তৃণমূলের তৎকালীন দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডল ওরফে কেষ্টর হাত ধরে তৃণমূলে যোগ। ‘গুরু’ হিসেবে কেষ্টকে শ্রদ্ধা। তারপর থেকেই বৈভবের শিখরে উঠে যাওয়া। আউশগ্রাম-২ অঞ্চলে গেড়াই গ্রামে গেলেই রাস্তার দু’ ধারে দু’টি প্রাসাদোপম বাড়ি। লোকে আঙুল উঁচিয়ে বলেন, দু’টি বাড়িই লালনের। জোরপূর্বক জমি দখল, বালিঘাট দখল, কাটমানি নেওয়া, ঠিকাদারি রাজ চালিয়ে লালনের এহেন প্রতিপত্তি। অভিযোগ এলাকাবাসীর। সঞ্জু শেখ। ফাইল চিত্র