• ‘হ্যালো ক্যালকাটা’। পরক্ষণেই নিজেকে সংশোধন করলেন, ‘সরি, কলকাতা’। শুক্রবারের শিশির মঞ্চে তখন হাততালির ঝড়। কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের চেয়ারপার্সন গৌতম ঘোষ জানালেন, শুভ্রকেশ মানুষটির আলাদা করে পরিচয় দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তিনি রমেশ সিপ্পি। ভারতীয় সিনেমার ইতিহাস নতুন করে লিখেছিলেন যিনি। ‘শোলে’র ৫০ বছর উপলক্ষ্যে এবার ‘সত্যজিৎ রায় মেমোরিয়াল বক্তৃতা’ দিতেই উৎসবে এসেছেন পরিচালক। ‘শোলে’ তৈরির নেপথ্যে নানা কাহিনি দর্শকদের সঙ্গে শেয়ার করলেন তিনি। পাশাপাশি সত্যজিৎ রায়ের থেকে তিনি অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন, এ কথা স্বীকার করেছেন।
মাত্র চার লাইনের আইডিয়া নিয়ে শুরু হয়েছিল ‘শোলে’ তৈরির কাজ। ‘সিনেমা আসলে কী, এত বছরে আমি নিজেও বুঝিনি। প্রতিনিয়ত প্রযুক্তি উন্নত হচ্ছে। প্রতিদিন শিখছি। আমাকে হামেশাই প্রশ্ন করা হয়, আরও একটা শোলে তৈরি করছি না কেন! জবাব দিই, প্রথম শোলেই যদি ভোলা না যায়, তাহলে দ্বিতীয়বার বানাব কীভাবে?’, স্পষ্ট বললেন রমেশ। তা সত্ত্বেও আক্ষেপ রয়েছে তাঁর। বললেন, ‘আমি আরও অনেক ছবি করেছি, হৃদয় দিয়ে করেছি। তবে মানুষের প্রত্যাশা ছুঁতে পারেনি হয়তো।’
প্রাথমিকভাবে গব্বর সিংয়ের চরিত্রে অভিনয় করতে চেয়েছিলেন ধর্মেন্দ্র! পরিচালক বললেন, ‘ধর্মেন্দ্রকে বললাম, গব্বর তো ভিলেন, তুমি ভিলেন হবে? তখন আর রাজি হয়নি। তারপর ঠাকুর চরিত্রেও অভিনয় করতে চেয়েছিল। যখন জানল হেমা মালিনী বীরুরই হবে। তখন বীরু করতে রাজি হয় (হাসি)।’ জরুরি অবস্থা পরবর্তী সময়ে সেন্সর বোর্ডের কাঁচি চলে ছবির একাধিক দৃশ্যে। সে প্রসঙ্গে রমেশ বললেন, ‘ওই সময় পরিস্থিতিই তেমন ছিল। এখন আনকাট দৃশ্য জুড়েছে। তা সত্ত্বেও ছবিটি দেখলে, খুব বেশি ফারাক চোখে পড়বে না।’ ভবিষ্যৎ পরিচালকদের উৎসাহিত করেন তিনি। তাঁদের জন্য রমেশের বার্তা, ‘অনেকেই বলেন, সিনেমা মৃত শিল্প। তা একেবারেই ভুল। সিনেমা সবসময় জীবন্ত। ভালো গল্প, ভালো ছবি হলে দর্শক অবশ্যই প্রেক্ষাগৃহে আসবেন। চিরকাল এ কথাই বিশ্বাস করেছি। এর জন্য প্রয়োজন সবসময় হৃদয়ের কথা শোনা।’ পরিচালক জানালেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধনে তিনি জানিয়েছেন, বাংলা ও মুম্বই মিলে একটি প্রজেক্ট করা যেতে পারে। সঠিক বিষয় পেলে শীঘ্রই এ বিষয়ে কাজ হবে বলে আশ্বাস দিলেন রমেশ।