Bartaman Logo
৩ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মগরায় গৃহবধূকে পুড়িয়ে খুন, স্বামী ও শ্বশুরের যাবজ্জীবন

মগরায় গৃহবধূ মধুমিতা সোলাঙ্কিকে পুড়িয়ে খুনের মামলায় স্বামী ও শ্বশুরের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। কেন এই রায় গুরুত্বপূর্ণ? বিস্তারিত পড়ুন।

মগরায় গৃহবধূকে পুড়িয়ে খুন, স্বামী ও শ্বশুরের যাবজ্জীবন
  • ৩ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: পণের দাবিতে মগরায় গৃহবধূকে পুড়িয়ে খুনের মামলায় বৃহস্পতিবার আসামিদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল চুঁচুড়া আদালত। ২০২২ সালের ২৭ মে গৃহবধূ মধুমিতা সোলাঙ্কি শ্বশুরবাড়িতেই অগ্নিদগ্ধ হন। ওই বছরের ১১ জুলাই কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তাঁর। মৃত্যুকালীন জবানবন্দি, চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্র, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, সাক্ষীদের বয়ান ও অন্যান্য পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত তাঁর স্বামী বিনীত কোনাই ও শ্বশুর বিশ্বনাথ কোনাইকে দোষী সাব্যস্ত করে। এদিন রায়দান করেন বিচারক। জানা গিয়েছে, মধুমিতা ও বিনীতের বিয়ে হয়েছিল ২০২০ সালের ৩০ নভেম্বর। অভিযোগ, বিয়ের সময় পাত্রীর পরিবার থেকে নগদ টাকা, সোনার গয়না ও অন্যান্য সামগ্রী পণ হিসাবে নেওয়া হয়েছিল। তারপরও অতিরিক্ত পণের দাবিতে মধুমিতার উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা। তারাই গৃহবধূর গায়ে আগুন লাগিয়েছিল বলে তদন্তে প্রকাশ। মৃত্যুকালীন জবানবন্দিতে মধুমিতা বলেছিলেন, স্বামী বিনীত তাঁর শরীরে কেরোসিন ঢেলে দিয়েছে আর শ্বশুর বিশ্বনাথ কোনাই দেশলাই জ্বালিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলেন।

Advertisement

তদন্তে নেমে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কেরোসিন ভরতি বোতল, দেশলাই, পোড়া পোশাক সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহ করে। তার ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা মামলা দায়ের হয়। এদিন জেলা ও দায়রা বিচারকের অতিরিক্ত আদালত ও তৃতীয় আদালত অভিযুক্ত বিশ্বনাথ কোনাই এবং বিনীত কোনাইকে দোষী সাব্যস্ত করে। তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ