নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বর্ধমানের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ক্ষুদিরাম পল্লিতে হাঁসুয়া হাতে তাণ্ডব চালাল একজন গৃহবধূ। অভিযোগ, হাঁসুয়া দিয়ে বৃদ্ধা শাশুড়িকেও এলোপাথাড়ি কোপ মারে ওই গূহবধূ। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই বৃদ্ধাকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাঁসুয়া হাতে ওই গৃহবধূ পাড়ায় দাপিয়ে বেড়ানোয় ভয়ে অনেকেই দরজা বন্ধ করে দেন। সে একাধিক দরজাতেও হাঁসুয়ার কোপ মারে। আর ওই হামলার ছবি তার নাবালক ছেলেকে ক্যামেরাবন্দি করার নির্দেশ দেয়। ছেলে তা করতে রাজি না হওয়ায় তাকে ভয় দেখাতে থাকে। ফলে বাধ্য হয়ে ছেলে হামলার দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করে। স্থানীয়রা তাকে আটকানোর চেষ্টা করলে সে তাদের উপরেও হামলা চালায়। বেশ কিছুক্ষণ চেষ্টার পর তাঁর হাত থেকে স্থানীয়রা হাঁসুয়া কাড়তে সক্ষম হন।
বর্ধমান থানার পুলিশ তাকে আটক করে নিয়ে যায়। পারিবারিক অশান্তির কারণে সে শাশুড়ির উপর হামলা করেছে বলে পুলিশকে জানিয়েছে। সে এলাকার আরও কয়েকজনকে মারার হুমকি দেয়। এই ঘটনার সময় তার স্বামী বাড়িতে ছিলেন না।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই বধূর মধ্যে কোনও অনুশোচনা নেই। হামলার পর সে সবার সামনে নিজের অপরাধ স্বীকার করে। পুলিশকে প্রমাণ দেওয়ার জন্য সে হামলার দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেছে বলে জানায়। এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, ওই গৃহবধূর কথার মধ্যে অসংলগ্নতা রয়েছে। মানসিকভাবে সে সুস্থ কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তার দাবি, শাশুড়ি তার সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে অশান্তি করতেন। সেই কারণেই তাঁকে মারার ছক কষে। প্রথমে তাঁর পায়ে সে কোপ মারে। পরে ঘাড়ের কাছেও কোপ মারে। বৃদ্ধা রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়তেই সে হাসুয়া হাতে পাড়ায় বেরিয়ে পড়ে। স্থানীয় কয়েকজন তার শাশুড়িকে সমর্থন করত। সেই কারণেই সে তাদের বাড়ির দরজায় হাসুয়া নিয়ে কোপ মারে। এদিন ওই গৃহবধূর রুদ্রমূর্তি দেখে সকলেই তড়িঘড়ি দরজা বন্ধ করে দেয়। তা না হলে সে আরও অনেককেই আক্রমণ করত। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, শাশুড়ি এবং বউমার মধ্যে প্রতিদিনই অশান্তি হত। এদিনও তেমন ভাবেই শুরু হয়েছিল। প্রথম দিকে বিষয়টি কেউই গুরুত্ব দেয়নি। পরে তার শাশুড়ির কান্না শুনে এলাকার কয়েকজন বাড়িতে গিয়েছিলেন। তাঁরা তাকে আটকানোর চেষ্টা করলে তাঁদের উপর সে হামলার চেষ্টা করে। কোনও রকমে সেখান থেকে তারা পালিয়ে গিয়ে প্রাণ রক্ষা করেন। বর্ধমানে বৌমার কাটারির আঘাতে যখন শাশুড়িমা ।