Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মিড ডে মিলের রাঁধুনিদের কম খরচে সুস্বাদু রান্নার পাঠ দেবে হোটেল ম্যানেজমেন্ট সংস্থা

খরচ হবে অল্প, কিন্তু রান্না হবে সুস্বাদু। তার জন্য অনেক তেল-মশলা খরচ করতে হবে, এমন নয়! শুধু জানতে হবে কিছু কৌশল।

মিড ডে মিলের রাঁধুনিদের কম খরচে সুস্বাদু রান্নার পাঠ দেবে হোটেল ম্যানেজমেন্ট সংস্থা
  • ১৭ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান ও কলকাতা: খরচ হবে অল্প, কিন্তু রান্না হবে সুস্বাদু। তার জন্য অনেক তেল-মশলা খরচ করতে হবে, এমন নয়! শুধু জানতে হবে কিছু কৌশল। স্কুলের মিড ডে মিলের রাঁধুনিদের এবার সেই কৌশল শেখাবেন হোটেল ম্যানেজমেন্টের কর্মীরা। গ্রীষ্মের ছুটির পর থেকে একটি নামী হোটেল ম্যানেজমেন্ট সংস্থার কর্মীরা রান্নার পাঠ দেবেন তাঁদের। সোমবার বর্ধমানের জেলাশাসকের দপ্তরে এনিয়ে একটি বৈঠক হয়। জেলাশাসক আয়েশা রানি বলেন, ‘স্বল্প খরচে মিড ডে মিলকে আরও সুস্বাদু ও আকর্ষণীয় করতেই এই সিদ্ধান্ত।’ 

Advertisement

সংশ্লিষ্ট হোটেল ম্যানেজমেন্ট কলেজের এক আধিকারিক বলেন, ‘ভালো রান্না করার জন্য সবসময় বিভিন্ন ধরনের মশলার দরকার হয় না। কিছু খাবার সেদ্ধ করে তাতে অল্প কিছু উপকরণ দিলেই মুখরোচক হয়। যেমন, স্কুলগুলিতে প্রতিদিন ভাত হয়। সেই ভাতে জিরে সহ কয়েকটি উপাদান দিলেই স্বাদ বদলে যাবে। একইভাবে ডাল বা সয়াবিন তরকারিও মুখরোচক করে তোলা যায়। এসবই শেখানো হবে। প্রথম কয়েকজনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পরে তাঁরাই অন্যান্যদের প্রশিক্ষণ দেবেন। তিন থেকে পাঁচদিনের প্রশিক্ষণ যথেষ্ট।’ প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, গ্রীষ্মের ছুটির পর শহরের স্কুলগুলির প্রশিক্ষণ শুরু হবে। নতুন পদ্ধতিতে রান্না হলে পড়ুয়াদের মিড ডে মিলের প্রতি আগ্রহ বাড়বে বলে আশা জেলা প্রশাসনের। হোটেল ম্যানেজমেন্ট কলেজের ওই আধিকারিক আরও বলেন, ‘সব্জি, আলু, পেঁয়াজ ইত্যাদি কাটারও বিশেষ কৌশল রয়েছে। তার উপর স্বাদ নির্ভর করে না ঠিকই, কিন্তু দেখতে ভালো লাগে। রান্নার সমস্ত খুঁটিনাটি তাঁদের শেখানো হবে।’ সেই সঙ্গে প্রতিটি স্কুলে কিচেন গার্ডেন অর্থাৎ অল্প জায়গার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সব্জি চাষ করতে বলা হয়েছে। রায়না এবং ভাতারের কয়েকটি স্কুল এই কাজে অনেকটা এগিয়েও গিয়েছে। 
এদিকে, মিড ডে মিল বা ‘পিএম পোষণ’ নিয়ে কেন্দ্র এক নয়া নির্দেশিকায় জানিয়েছে, শিশুদের রান্নায় অন্তত ১০ শতাংশ তেল কম ব্যবহার করতে হবে। শনিবার শিক্ষামন্ত্রকের অধীন স্কুলশিক্ষা দপ্তরের সচিব সঞ্জয় কুমার রাজ্যগুলিকে এই মর্মে চিঠি পাঠিয়েছেন। বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চাইল্ড ওবেসিটি বা শিশুদের স্থূলত্ব নিয়ে বিশেষ চিন্তিত। ‘পরীক্ষা পে চর্চা’ এবং ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে একথা বলেছেনও তিনি। ল্যানসেট জার্নালে প্রকাশ, ২০২২ সালে দেশের ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সি ১ কোটি ২৫ লক্ষ শিশু স্থূলত্বের শিকার। ১৯৯০ সালে এই সংখ্যা ছিল মাত্র চার লক্ষ। এই সমস্যা থেকে বেরনোর উপায় হিসেবে ‘ডিপ ফ্রায়েড’ খাবারের বদলে বেক করা, স্টিম দেওয়া বা গ্রিল করা মেনুতে জোর দিতে বলা হয়েছে। তাই তেলমুক্ত নানা পদ রান্না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর জন্য রাঁধুনি এবং সহায়কদের বিশেষ প্রশিক্ষণের প্রস্তাব দিয়েছে কেন্দ্র। শিক্ষকরা অবশ্য বলছেন, এসব শুনতে ভালোই লাগে! যারা মিড ডে মিল খায়, তাদের বড় সমস্যা স্থূলত্ব নয়, অপুষ্টি। বাস্তব পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে নীতি প্রণয়ন করা উচিত।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ