নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বাংলাদেশে অশান্তির আবহ এখনও পুরোপুরি কাটেনি। এই অবস্থায় গতবারের মতো এবারও সেদেশে দুর্গাপুজো নিয়ে কিছুটা হলেও ধোঁয়াশা রয়েছে। ফলে এবার ইছামতীর বুকে ভাসান পর্বে আগের মতো জৌলুস থাকবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। তার প্রভাব পড়েছে টাকিতে হোটেল বুকিংয়ের উপর। দুর্গাপুজোয় এই সীমান্ত শহরে হোটেল বুকিংয়ের হার কার্যত তলানিতে। স্বাভাবিকভাবেই চিন্তায় হোটেল মালিকরা।
উমার বিসর্জন মানে মনখারাপের দিন। তবে তার সঙ্গে মিশে থাকে নতুন আশা। টাকিতে বিসর্জনের সাক্ষী থাকেন দুই বাংলার মানুষ। এই একটি দিন, যেদিন ইছামতীর বুকে নৌকা নিয়ে নেমে পড়েন দু’দেশের মানুষ। সীমারেখা লঙ্ঘন না করেই হয় প্রতিমা বিসর্জন। তা দেখতে নদীর দু’পাড়ে ঢল নামে মানুষের। এবারও ইছামতীর জলসীমা লঙ্ঘন না করেই হবে বিসর্জন। কিন্তু, অন্যান্য বছর আগেভাগে হোটেল বা গেস্ট হাউস বুকিংয়ের যে স্রোত থাকে, তাতে এবার ভাটার টান। ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্যান্য বছর পুজোর মাস দেড়েক আগে থেকেই হোটেল বা গেস্ট হাউস বুকিং হতে শুরু করে। কিন্তু, এবার তা একেবারেই তলানিতে। শুধু তাই নয়, অন্যান্য বছর পুজোর সময় অনেক পর্যটকও এখানে আসেন নিরিবিলি সময় কাটাতে। সেই প্রবণতাও এবার চোখে পড়ছে না। ফলে ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করছেন তাঁরা।
হোটেল মালিক ফারুক গাজি বলেন, অন্যান্য বছর ভাসানের দিনের জন্য এই সময় বুকিং হয়ে যায়। এবার এখনও কেউ সেভাবে যোগাযোগ করেননি। কারণ বাংলাদেশের পরিস্থিতি। পুজোয় এখনও পর্যন্ত মেরেকেটে ৩০ শতাংশের মতো রুম বুক হয়েছে। মহালয়ার পর ফ্ল্যাগ মিটিং হওয়ার কথা। আশা করি, তারপর বুকিং বাড়বে। টাকিতে বেসরকারি হোটেলের পাশাপাশি রয়েছে পুরসভার একটি গেস্ট হাউস। সেগুলিও বুকিং হয়নি। এ নিয়ে পুরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ মুখোপাধ্যায় বলেন, পুজোর দিনগুলির জন্য হোটেল বুকিং হলেও বিসর্জনের দিনের চাহিদা তেমন একটা নেই। আশা করছি, পরের দিকে হোটেল বুকিং হয়ে যাবে।
(ছবি-সুজয় মণ্ডল)