Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘এখনই ৪০! এপ্রিল-মে মাসে কী হবে?’ বসন্তের গরমে হাঁসফাঁস কলকাতা, চাকদহে মৃত্যু

‘এখনই ৪০! এপ্রিল-মে মাসে কী হবে?’ বসন্তের গরমে হাঁসফাঁস কলকাতা, চাকদহে মৃত্যু
  • ১৭ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: মার্চ মাস শেষ হতে এখনও দিন পনেরো বাকি। ভরা বসন্ত চলছে। কিন্তু কোথায় সেই বসন্তের মনোরম নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া! এ যে বৈশাখের দীর্ঘ-দগ্ধ দিনকেও হার মানায়! হবে না-ই বা কেন! আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর বলছে, রবিবার কলকাতা শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ২.১ ডিগ্রি বেশি। সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও (২৬.৫) স্বাভাবিকের তুলনায় ৩.৯ ডিগ্রি বেশি ছিল। কিন্তু এ তো স্রেফ তথ্য। আপেক্ষিক আর্দ্রতা সহ পারিপার্শ্বিক একাধিক কারণে এদিন কলকাতায় যে গরম অনুভূত হয়েছে, তা ৪০ ডিগ্রি  তাপমাত্রার সমতুল। বেলা বাড়তেই মুঠোফোনের নির্দিষ্ট অ্যাপ দেখিয়েছে, রবিবারের গরম ‘ফিলস লাইক ৪০’! দোলের ছুটি ও রবিবার থাকায় ক’দিন বাড়ি থেকে না বেরলেও চলত শহরবাসীর। আজ সোমবার। কাজে বেরতে হবে সবাইকে। ভরা বসন্তে গরমের এই মারকাটারি ‘ব্যাটিং’ সামলানো যাবে তো? এই উদ্বেগের পাশাপাশি তাদের প্রশ্ন, ‘এখনই তো ৪০ ডিগ্রি দেখাচ্ছে। তাহলে এপ্রিল-মে মাসে কী হবে, কে জানে।’ এর মধ্যেই আম জনতার উদ্বেগ বাড়িয়েছে চাকদহের ঘটনা। সেখানকার পুমলিয়া সেবাগ্রাম এলাকায় রোদে বাইরে বেরিয়ে মাথা ঘুরে পড়ে যান মিঠুন দাস (৩৫) নামে এক যুবক। এলাকার লোকজন তাঁকে ছায়ায় সরিয়ে নিয়ে গিয়ে চোখেমুখে জল দেন। তাতেও তাঁর জ্ঞান না ফেরায় নিয়ে যাওয়া হয় চাকদহ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে। সেখানে চিকিত্সকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। গরমের জন্যই এই মৃত্যু নাকি অন্য কোনও কারণ আছে, তা জানতে দেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিস। তবে এদিন সন্ধ্যায় কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় হাল্কা বৃষ্টি হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। 

Advertisement

মার্চেই হাঁসফাঁস গরম নিয়ে শহরবাসীদের নানা মত উঠে এসেছে। সকালে গড়িয়াহাটে বাজার করতে এসেছিলেন পল্লব দাস। তিনি বলছিলেন, ‘আমরাই প্রকৃতি নষ্ট করছি। তাই গরম সহ্য করতেই হবে। সবে মার্চ মাস। এত তাড়াতাড়ি বৃষ্টির আশা করতেও তো কেমন লাগে।’  নিউমার্কেটে সানগ্লাস কিনতে এসে এক ব্যক্তি বললেন, ‘কাল থেকে তো আবার কাজে বেরতে হবে। কীভাবে যে এই গরম মোকাবিলা করা যাবে, জানি না। গ্লুকোজ, ওআরএস আজই কিনে রাখব।’ আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস অবশ্য চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে কালবৈশাখীর সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন। এদিন বিকেলে দাবদাহ থেকে স্বস্তি মিলেছে বাঁকুড়া ও মেদিনীপুরের বিভিন্ন অংশে। বিহারের উপর একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা অবস্থান করায় দক্ষিণবঙ্গের কিছু জেলায় এই বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিকর্তা।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ