Bartaman Logo
১৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

সাড়ে ৩ মাস পর যুদ্ধে ইতি, ১৯ জুন আমেরিকা-ইরান শান্তিচুক্তি, ‘মানতে বাধ্য নই’, উদ্বেগ বজায় রেখে বেসুরো ইজরায়েল

১৯ জুন আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর হতে চলেছে। ইজরায়েল বলছে, চুক্তির সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। বিস্তারিত পড়ুন।

সাড়ে ৩ মাস পর যুদ্ধে ইতি, ১৯ জুন আমেরিকা-ইরান শান্তিচুক্তি, ‘মানতে বাধ্য নই’, উদ্বেগ বজায় রেখে বেসুরো ইজরায়েল
  • ১৬ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ওয়াশিংটন: রবিবার ইরানের সঙ্গে সমঝোতা হয়ে যাবে। এমনটাই জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় লেবাননে ইজরায়েলের হামলা। তা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই এল সুখবর। সোমবার ভোররাতে মিলল সমাধানসূত্র। ১০৮ দিন পর শেষমেশ বন্ধ হচ্ছে পশ্চিম এশিয়ার সংঘর্ষ। খুলে যাচ্ছে হরমুজ প্রণালীও। শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করতে চলেছে ইরান ও আমেরিকা। এমনই জানালেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। পরে সমাজমাধ্যমে এই সংক্রান্ত ঘোষণা করেন  ট্রাম্পও। সব ঠিক থাকলে ১৯ জুন, শুক্রবার সুইৎজারল্যান্ডের জেনেভায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে এই চুক্তি। ইতিমধ্যেই দুই দেশের মধ্যে ‘ভার্চুয়াল মউ’ স্বাক্ষর হয়েছে। আমেরিকার তরফে ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভান্স এবং ইরানের তরফে স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ মউয়ে ‘ডিজিটাল’ সই করেছেন।  ইরান ও আমেরিকা দুই তরফেই বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে এখানেও কাঁটা ট্রাম্পের একদা ‘বন্ধু’ নেতানিয়াহু। ইজরায়েলের সাফ বার্তা, এই চুক্তির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই ইজরায়েলের। তা মানতে বাধ্য নয় তারা। ফলে একটা উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে। 

Advertisement

সূত্রের খবর, শেষমুহূর্তে শান্তিচুক্তির প্রস্তাবে রদবদল করা হয়েছে। ইরান ও ওমানের দাবি ছিল, হরমুজে জাহাজ চলাচলে টাকা আদায় করবে তারা। সেই শর্ত মেনে নিতেই শান্তিচুক্তির বিষয়টি পাকা হয়ে যায়। যদিও এনিয়ে আমেরিকার প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। ইতিমধ্যে সমঝোতার একটি চূড়ান্ত খসড়াও সামনে এসেছে। খসড়া অনুসারে, আমেরিকা বাজেয়াপ্ত করে রাখা ২৫ বিলিয়ন ডলার ইরানকে ফেরত দেবে। তবে  তেহরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। ইরানের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেবে আমেরিকা। তুলে নেওয়া হবে হরমুজে অবরোধ।  চুক্তি স্বাক্ষরের পর বিস্তারিত আলোচনার জন্য ৬০ দিন সময় থাকছে। তারপরই শর্তাবলীতে সিলমোহর দেওয়া হবে।  শান্তিচুক্তি নিয়ে পুতিন ও জিনপিংয়ের প্রশংসা করেছেন ট্রাম্প। কিন্তু বেঁকে বসেছে ইজরায়েল। এদিন এক্স হ্যান্ডলে ইজরায়েলের নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-জিভির সাফ বক্তব্য— ইরান ও আমেরিকার শান্তিচুক্তির সঙ্গে ইজরায়েলের কোনো সম্পর্ক নেই। আমেরিকার কথা মানতে বাধ্য নয় ইজরায়েল। স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসাবে নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে ইজরায়েল। চুক্তি মেনে চলার কোনো বাধ্যবাধকতা তাদের নেই। হিজবুল্লার সঙ্গেও কোনোরকম আপোস করা হবে না। এমনকী লেবাননের দখলীকৃত এলাকা থেকেও সরবে না ইজরায়েলি সেনা। অর্থাৎ এই মুহূর্তে লেবাননে হামলা থামার কোনো সম্ভাবনা নেই। সেক্ষেত্রে ইরানও বেঁকে বসতে পারে। অনিশ্চয়তাকে সঙ্গী করেই ১৯ জুনের অপেক্ষা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ