


নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: রাজ্যে সরকারের উদ্যোগে ইসলামপুরে তৈরি হবে নতুন হাসপাতাল। রানিনগর-১ ব্লকে তিনতলা এই হাসপাতালটি তৈরিতে ৫ কোটি ৭৪ লক্ষ টাকা ব্যয় ধার্য হয়েছে। ইসলামপুর গ্রামীণ হাসপতালের বেহাল অবস্থা নিয়ে বারবার সরব হয়েছে বাসিন্দারা। এবার সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে নতুন ঝা চকচকে নতুন হাসপতাল ভবন নির্মাণ হবে। তিনতলা নতুন ভবনে থাকবে ৩০টি বেড। অপারেশন থিয়েটার থেকে শুরু করে লিফ্ট সহ সমস্ত আধুনিক ব্যবস্থা থাকবে। ইসলামপুরের মানুষের দাবি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছিলেন বিধায়ক সৌমিক হোসেন। তারপরই জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের কাছে আর্থিক অনুমোদন এসেছে।
জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সন্দীপ সান্যাল বলেন, আমরা জেলাজুড়ে স্বাস্থ্য পরিষেবার মান আরও উন্নত করার চেষ্টা করছি। হাসপাতালটি তৈরির জন্য পাঁচ কোটি ৭৪ লক্ষ টাকা ব্যয় বরাদ্দ করা হয়েছে। বিধায়ক দীর্ঘদিন ধরে এই হাসপাতাল তৈরির জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন। খুব দ্রুত এই হাসপাতাল তৈরির কাজ শুরু হবে। দরপত্র ডেকে নিয়মমাফিক কাজ হবে। এখানে থাকবে ওটি, রোগীদের ওঠানামা করার জন্য তিনতলা ভবনে থাকবে লিফ্ট। সৌমিক হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি ছিল একটি ভালো মানের হাসপাতাল তৈরি করতে হবে। সেই দাবি নিয়েই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আর্জি জানিয়েছিলাম। আমাদের সরকার মানুষের জন্য কাজ করে। তাঁরা আমাদের আর্জিতে সাড়া দিয়েছেন। মুর্শিদাবাদে একমাত্র আমার বিধানসভা এলাকাতেই এই আধুনিক হাসপাতাল তৈরি হবে। যেখানে ৩০টি বেড থাকবে। সাধারণ মানুষের খুব সুবিধা হবে।
উল্লেখ্য, ইসলামপুর গ্রামীণ হাসপাতালের দীর্ঘদিন ধরে বেহাল দশা। বর্ষায় হাসপাতালের ভিতরে জল পড়ে। চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সংখ্যা কম। সে কারণে সেখানে পরিষেবা প্রায় মেলে না। জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের তরফ থেকে সাধারণ মানুষের চিকিৎসার জন্য বেশ কিছুটা দূরে কুড়ি বেডের একটি হাসপাতাল করা হয়েছে। কিন্তু সেখানেও লোকবল নেই। ফলে চিকিৎসা পরিষেবা দিতে গিয়ে নাস্তানাবুদ হতে হয় হাতে গোনা কয়েকজন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীকে। তাই রানিনগর-১ ব্লকের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এলাকায় একটি ভালো হাসপাতাল তৈরির। স্থানীয় বিধায়কের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তাঁরা। অবশেষে রাজ্য সরকারের তরফে অর্থ অনুমোদন হতেই এলাকায় খুশির হাওয়া।
স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল শেখ বলেন, জটিল কোনো রোগ হলে আমাদের ডোমকল সাব ডিভিশনাল হাসপাতালে ছুটতে হতো। নতুন হাসপাতাল হলে আমাদের খুব সুবিধা হবে। মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজের অনেক উন্নতি হয়েছে। ডোমকল মহকুমা হাসপাতালেও চিকিৎসা পরিষেবার মান ভালো। ইসলামপুরে এই নতুন হাসপাতালের পরিষেবার মানও ভালো হবে আশা করি।