নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: ডিম্বাশয়ে নয়, প্রথমে ডিম্বনালী এবং পরবর্তীতে তা ফেটে ভ্রূণ বেড়ে উঠছিল সরাসরি পেটে! অপরিণত ভ্রূণের এহেন জটিল অবস্থার কারণে জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছিল রানাঘাটের এক অন্তঃসত্ত্বার। শেষ পর্যন্ত রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালের চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচার করে প্রাণরক্ষা করেন ওই তরুণীর। বর্তমানে তিনি স্থিতিশীল, এবং ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বছর বত্রিশের ওই তরুণী রানাঘাট শহরের পূর্বপাড় মহাপ্রভুপাড়ার বাসিন্দা। নাম ঝুমকি চৌধুরী। বৃহস্পতিবার প্রায় তিন মাসের গর্ভবতী ওই তরুণীকে অচৈতন্য অবস্থায় রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে আসেন পরিজনরা। তিনি অন্তঃসত্ত্বা জানার পর চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে যা দেখেন, তাতে তাঁদের চোখ কপালে ওঠে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, মহিলার গর্ভের ভ্রূণটি স্বাভাবিক নিয়মে জরায়ুতে না বেড়ে ডিম্বনালীতে বেড়ে উঠতে শুরু করে। পরে বাড়তি চাপে ডিম্বনালী ফেটে যায় এবং ভ্রূণ সরাসরি উদর বা পেটে চলে আসে। সেখানেই বেড়ে উঠতে শুরু করে ভ্রূণটি! এদিকে, ডিম্বনালী ফেটে যাওয়ার কারণে শরীরের ভিতরেই শুরু হয় প্রবল রক্তক্ষরণ। যা রোগীর শারীরিক অবনতির কারণ হয়ে ওঠে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই ধরনের গর্ভাবস্থাকে র্যাপচার্ড একটোপিক প্রেগন্যান্সি বলে।
হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ভর্তির সময়ে রোগীর রক্তে হিমোগ্লোবিন ছিল চার ইউনিটেরও কম। ব্লাড প্রেশার মাপাই যাচ্ছিল না। তাৎক্ষণিকভাবে দুই ইউনিট রক্ত দেওয়া হলেও রক্তচাপ অস্বাভাবিকভাবে নেমে গিয়েছিল। ফলে চার ঘণ্টা ধরে রোগীকে পর্যবেক্ষণে রেখে তবে অস্ত্রোপচার শুরু হয়। তখন সর্বোচ্চ ব্লাড প্রেশার উঠেছিল ৮০/৪০। যা বিপজ্জনক। তবুও ওই তরুণীকে বাঁচাতে বিরলের মধ্যে বিরলতম অস্ত্রোপচারটি করেন রানাঘাট হাসপাতালের চিকিৎসক সুদেব রায়। তিনি জানান, প্রথম অবস্থায় আমি পরিবারের লোককে বলেই দিয়েছিলাম ঈশ্বর সহায় না হলে রোগীকে বাঁচিয়ে আনা অসম্ভব। তবু আমরা আমাদের মতো চেষ্টা করেছি। ভালো লাগছে যে ওই তরুণীকে বাঁচানো গিয়েছে। তবে শুধু স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ নয়, এ সময় অ্যানেস্থেটিস্ট নীনা হালদারের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ, এত কম ব্লাড প্রেশারে ওই তরুণীকে অস্ত্রোপচারের সময় সামলে রাখা যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং। রানাঘাট মহকুমা হাসপাতাল সুপার প্রহ্লাদ অধিকারী বলেন, ওই অবস্থায় অন্য হাসপাতালে রেফার করা হলে রোগী পথেই মারা যেতে পারতেন। তাই সীমিত পরিকাঠামোর মধ্যেই আমাদের চিকিৎসক দল ঝুঁকি নিয়ে অস্ত্রোপচারে নেমেছিল। শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছি। এটা জটিল অবস্থায় রোগীকে বাঁচানো খুবই বিরল। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ঝুমকিকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে। হাসপাতালে শয্যাশায়ী ঝুমকি চৌধুরী বলেন, বেঁচে আছি এটা বিশ্বাসই করতে পারছি না। এই হাসপাতালের ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্যই আমি আজ জীবিত। -নিজস্ব চিত্র