Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হাসপাতালের বাতিল জিনিস অবিলম্বে সরাতে নির্দেশ, বেসমেন্টে দাহ্যপদার্থ রাখায় নিষেধাজ্ঞা, প্রতিমাসে দিতে হবে ফায়ার অডিট রিপোর্ট

শেষ পাঁচবছরে দেশজুড়ে একের পর এক হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অসংখ্য মানুষের প্রাণ যাচ্ছে। ২০২১ সালে মহারাষ্ট্রের ভান্ডারায় একটি হাসপাতালের আগুন লাগার ঘটনায় ১০টি দুধের শিশুর মৃত্যু হয়।

হাসপাতালের বাতিল জিনিস অবিলম্বে সরাতে নির্দেশ, বেসমেন্টে দাহ্যপদার্থ রাখায় নিষেধাজ্ঞা, প্রতিমাসে দিতে হবে ফায়ার অডিট রিপোর্ট
  • ১৮ মার্চ, ২০২৬ ১৫:০৩
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শেষ পাঁচবছরে দেশজুড়ে একের পর এক হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অসংখ্য মানুষের প্রাণ যাচ্ছে। ২০২১ সালে মহারাষ্ট্রের ভান্ডারায় একটি হাসপাতালের আগুন লাগার ঘটনায় ১০টি দুধের শিশুর মৃত্যু হয়। কোভিডকালের সে-বছরই ভিরারে একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়। ২০২৪ সালে ঝাঁসির একটি হাসপাতালের নিকুতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১০ সদ্যোজাত মারা যায়। ২০২৫ সালে রাজস্থানে ফের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে হাসপাতালে। মারা যায় ছয়জন আইসিইউ রোগী। শেষ মারাত্মক ঘটনাটি ঘটে গেল সোমবার ওড়িশার কটকে। একটি মেডিকেল কলেজের ছয়জন রোগীর মর্মান্তিক মৃত্যু হল গুরুতর অগ্নিদগ্ধ হয়ে। 

Advertisement

এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার জরুরি ভিত্তিতে এক নির্দেশনামা জারিসহ রাজ্যের হাসপাতালগুলিকে সতর্ক করল স্বাস্থ্যভবন। স্বাস্থ্যসচিবের জারি করা ওই নির্দেশে পরিষ্কার বলা হয়েছে, হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজগুলির যতরকমের বাতিল জিনিসপত্র আছে, সব বের করে ফেলতে হবে। আগুনের তদন্তে নেমে বহুসময়ই দমকলকর্মীরা এবং ফরেনসিকের আধিকারিকরা হাসপাতালের বেসমেন্ট বা ভূগর্ভের তলাগুলির বিপজ্জনক দশা দেখেছেন। বহুক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে, যতরকমের দাহ্যবস্তু রয়েছে, বাতিল মালপত্র রয়েছে, সবকিছু জড়ো করা হয়েছে বেসমেন্টে। এই নির্দেশে তাই স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রতিটি হাসপাতালের বেসমেন্টে যেন কোনোভাবেই কোনো দাহ্যপদার্থ রাখা না-হয়। এছাড়া ওয়ার্ড, সিসিইউ, আইসিউ, এইচডিইউ-সহ সমস্ত জায়গার এসি মেশিনগুলি কাজের সময় বাদে অবশ্যই ঠিকমতো বন্ধ করতে হবে। এসি ওয়্যারিং, ডাক্ট, কম্প্রেশারগুলির অবস্থা ঠিকঠাক আছে কি না, তা যাচাই করার ব্যাপারেও জোর দেওয়া হয়েছে। 
অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে ১৮ ফেব্রুয়ারি দপ্তরে অনুষ্ঠিত বৈঠক থেকে যেসব বিষয় উঠে এসেছিল সেগুলি কার্যকর করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। তখন ঠিক হয়—রোগীদের ব্যবহারের জন্য ৩০ হাজার লিটার জলধারণ ক্ষমতার ওভারহেড ট্যাঙ্ক আছে। তার মধ্যে ১০ হাজার লিটার সুনির্দিষ্টভাবে বরাদ্দ রাখতে হবে অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলার জন্য। চলবে মক ড্রিল এবং ১৫ দিন অন্তর যৌথ পরিদর্শন। এরই পাশাপাশি প্রতিমাসের ৭ তারিখ ফায়ার অডিট রিপোর্ট স্বাস্থ্যদপ্তরকে জানাতে বলা হয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ