সংবাদদাতা, কালনা: কালনায় নাবালিকা প্রসূতি বেড়ে চলায় উদ্বিগ্ন সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কালনা হাসপাতালে গত ২০২৪-২৫ বছরে ১৯ বছরের কম বয়সি ৬২১ জন মা হয়েছে। অর্থাৎ গড়ে প্রতি মাসে ৫০ জনের বেশি। তবে সবথেকে মারাত্মক তথ্য, ১৫ বছরের কম বয়সি ১৯ জন নাবালিকা মা হয়েছে। এদিকে চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত ১৫ বছরের কম বয়সি পাঁচজন ও ১৯ বছরের কম বয়সি ১৬১ জন নাবালিকা মা হয়েছে। যার অর্থ, প্রচারের ঢক্কানিনাদ সত্ত্বেও নাবালিকা বিয়ে ও মা হওয়া আটকানো যাচ্ছে না।
নাবালিকা বিয়ে রুখতে সরকার নানা ভাবে প্রচার চালাচ্ছে। স্কুল-কলেজ থেকে হাটেবাজারে, কন্যাশ্রী ক্লাব সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে লাগাতার প্রচার চলছে নাবালিকা বিয়ের বিরুদ্ধে। পুরোহিত, ইমাম, মৌলবি, ডেকরেটর, মাইক ব্যবসায়ী, ক্যাটারিং ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৈঠক হচ্ছে। অনেকে নাবালিকা বিয়ের জন্য মোবাইলকে দায়ী করলেও বিশিষ্টরা অভিভাবকদেরও কাঠগড়ায় তুলছেন। যা নিয়ে অভিভাবকদের সাফাই, সন্তানরা পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করছে। এমনও দেখা গিয়েছে, বিয়েতে বাধা দিলে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতেও পিছপা হচ্ছে না তারা। সম্প্রতি কালনা থানা এলাকায় এক নাবালিকার বিয়েতে অভিাবকরা রাজি না হওয়ায় নাবালিকাটি তার প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। সে যাত্রায় অবশ্য কালনা থানার তৎপরতায় গলায় ফাঁস দেওয়া যুগলকে উদ্ধার করে প্রাণে বাঁচানো যায়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে নাবালিকা বিয়ের ক্ষেত্রে পুরোহিত, ইমাম, মৌলবিরা নারাজ হলেও তারা পালিয়ে কোনও মসজিদ বা মন্দিরে মালাবদল করে নিচ্ছে।
কালনা হাসপাতালের সহকারী সুপার গৌতম বিশ্বাস বলেন, হাসপাতালে কোনও সন্তান সম্ভবা মহিলা এলে আমরা ভর্তি নিতে অস্বীকার করতে পারি না। আমাদের কাছে এমন কোনও নির্দেশিকা নেই। অথচ নাবালিকা প্রসূতিদের সন্তান প্রসব করাতে গিয়ে চিকিৎসকদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই তারা সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখী হচ্ছে। যার জেরে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। নাবালিকা বিয়ের কুফল নিয়ে আরও সচেতনতা ও প্রচার জরুরি।