Bartaman Logo
১৭ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সালারে দু’মাস ধরে ভারসাম্যহীন প্রৌঢ়ের পরিচর্যায় হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালকরা

খোঁজ করেও পরিবারের মেলেনি সন্ধান। তাই প্রায় দু’মাস ধরে এক অপরিচিত ভারসাম্যহীন প্রৌঢ়র পরিচর্যা করছেন সালার গ্রামীণ হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালকরা।

সালারে দু’মাস ধরে ভারসাম্যহীন প্রৌঢ়ের  পরিচর্যায় হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালকরা
  • ১৭ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কান্দি: খোঁজ করেও পরিবারের মেলেনি সন্ধান। তাই প্রায় দু’মাস ধরে এক অপরিচিত ভারসাম্যহীন প্রৌঢ়র পরিচর্যা করছেন সালার গ্রামীণ হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালকরা। ওই ব্যক্তিকে স্নান করানো থেকে খাইয়ে দেওয়া সবই ওই সব চালকরাই করছেন। এমনকি, প্রৌঢ়ের একটি নামও রেখে ফেলেছেন অ্যাম্বুলেন্স চালকরা। রবি সাহা বলে ডাক দিলেই সাড়া দেন ওই প্রৌঢ়।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় দু’মাস আগে প্রথম ওই প্রৌঢ়কে সালার গ্রামীণ হাসপাতাল এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। হাসপাতালের পরিত্যক্ত ঘরের বারান্দায় অথবা সদ্যনির্মিত ভবনের বারান্দায় তাঁকে পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল। এরপর একদিন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে হাসপাতালে ভরতিও করা হয়। কিন্তু প্রৌঢ়ের ঘনিষ্ট কাউকে খুঁজে না পাওয়ায় ওইসময় পরিচর্যার ভার নিয়েছিলেন অ্যাম্বুলেন্স চালকরা। আর তখন থেকেই এভাবেই অজ্ঞাত পরিচয় ওই ভারসাম্যহীনের পরিচর্যা করে আসার দাবি চালকদের। জানা গিয়েছে, ভারসাম্যহীন ওই ব্যক্তি কখনো নিজেকে একজন সাধু বাবা বলে পরিচয় দেন। আবার কখনো নিজেকে কাল ভৈবরীর অবতার বলে থাকেন। মাঝে মধ্যে গলায় ফুলের মালা পরে তপস্যায় বসেন। প্লাস্টিকের ক্যারিব্যাগে জল ভরতি করে এলাকায় ছড়িয়ে বেড়ান। বলতে থাকেন বাস্তু দোষ কাটছে। অ্যাম্বুলেন্স চালক নয়ন শেখ বলেন, আমরা অনেক খোঁজ করেও প্রৌঢ়র পরিবারের সন্ধান মেলাতে পারিনি। তাই উনি এখন আমাদেরই লোক হয়ে গিয়েছেন। উনাকে স্নান করিয়ে দেওয়া, খাবার এনে দেওয়া থেকে খাইয়ে পর্যন্ত দিতে হয়। তবে এসব পালা করে অ্যাম্বুলেন্স চালক সানি শেখ, বাবু শেখ, কোয়েল শেখ ,শাহাদত শেখ, রাহুল শেখরা পালা করে করে থাকেন বলে দাবি। সালার গ্রামীণ হাসপাতালের চিকিৎসক নুর আলম ইসলাম জানান, অনেকদিন ধরেই ওই ভারসাম্যহীন প্রৌঢ়কে দেখা যাচ্ছে। অসুস্থ হয়ে পড়লে ওঁর চিকিৎসাও এই হাসপাতাল থেকেই করা হয়। তবে অ্যাম্বুলেন্স চালকরা যেভাবে ওঁর পরিচর্যা করছেন, তাঁদের ধন্যবাদ দিয়ে ছোটো করা ঠিক হবে না। এবিষয়ে সালার থানার এক অফিসার বলেন, এই ধরণের কাজ এর আগেও অ্যাম্বুলেন্স চালকদের করতে দেখা গিয়েছে। ওই প্রৌঢ়র পরিবারের খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ