Bartaman Logo
৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

চোখের সামনে ৩০-৪০ জন ভেসে গেলেন জলের তোড়ে, ভয়াবহ অভিজ্ঞতা গোরক্ষপুরের যুবকের

রাখে হরি, মারে কে! হড়পা বান বিধ্বস্ত নেপাল থেকে প্রাণ হাতে ফিরে এসেছেন উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরের এক যুবক। ওই বিধ্বংসী পরিস্থিতিতে তাঁর অভিজ্ঞতাও সকলকে শিহরিত করেছে।

চোখের সামনে ৩০-৪০ জন ভেসে গেলেন জলের তোড়ে, ভয়াবহ অভিজ্ঞতা গোরক্ষপুরের যুবকের
  • ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

কাঠমাণ্ডু ও গোরক্ষপুর: রাখে হরি, মারে কে!  হড়পা বান বিধ্বস্ত নেপাল থেকে প্রাণ হাতে ফিরে এসেছেন উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরের এক যুবক। ওই বিধ্বংসী পরিস্থিতিতে তাঁর অভিজ্ঞতাও সকলকে শিহরিত করেছে। অন্যান্য দিনের মতোই গত সপ্তাহে নেপালের রসুয়া জেলার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে কাজে গিয়েছিলেন গোরক্ষপুরের আশুতোষ উপাধ্যায়। আচমকাই বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভিতরে ঢুকে পড়ে বন্যার জল। আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করে দেন কর্মীরা। চারদিকে তখন শুধু শোনা যাচ্ছিল, ‘ভাগো, ভাগো, পাওয়ারহাউসে জল ঢুকছে।’ জলের উচ্চতা বাড়তে থাকায় কর্মীরা একটি ছোট পাহাড়ের উপরে উঠে আশ্রয় নেন। কিন্তু সকলের ভাগ্য এতটা ভাল ছিল না। আশুতোষ জানান, রাহুল নামে এক কর্মী বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভিতরেই আটকে পড়েন। বেরোতে না পারায় সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর কথায়, ‘জলের তোড়ে ৩০-৪০ জন ভেসে গিয়েছিলেন।’ প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পাহাড়ে আশ্রয় নেওয়া কর্মীদের উদ্ধার করে ত্রিশূলী সেনা শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। পরে তাঁরা কাঠমাণ্ডুর একটি হোটেলে আশ্রয় নেন। তবে সেখানেও নতুন সমস্যা দেখা দেয়। বন্যায় তাঁদের পরিচয়পত্র-সহ সমস্ত নথি হারিয়ে যায়। পরে দূতাবাস থেকে নতুন নথি সংগ্রহ করে তাঁরা দেশে ফেরার সুযোগ পান। 

Advertisement

এরইমধ্যে মৃত্যুপুরী নুয়াকোটে ৯১ বছরের এক বৃদ্ধার উদ্ধারের ছবি সামনে এসেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, বৃদ্ধার মাথা থেকে পা পর্যন্ত কাদায় মাখা। জেসিবির সামনে থাকা কোদালের মতো অংশে বসে রয়েছেন তিনি। বৃদ্ধার নাম গুনা মায়া বোহারা। নুয়াকোটের দেবীঘাটে একটি বৃদ্ধাশ্রমের ধ্বংসস্তূপ থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। তবে তাঁর সাত সঙ্গীর মৃত্যু হয়েছে। বন্যার সময় বোহারা নীচতলার ঘরে ছিলেন। তাঁর আগে থেকেই পায়ে সমস্যা ছিল। জলের তোড়ে হাতেও চোট লাগে। তবু বাঁচার তাগিদে জানলা খুলে মাথা জলের উপরে রাখেন। দু-তিন ঘণ্টা পর স্বেচ্ছাসেবীরা তাঁকে কাদার মধ্যে থেকে উদ্ধার করেন। তখন শুধু তাঁর মাথাটুকু কাদার উপরে ছিল। বর্তমানে উদ্ধার হওয়া সব প্রবীণকে বিমানে করে কাঠমাণ্ডুর একটি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এমনই এক প্রবীণ বাসিন্দা জানান, বিপর্যয়ের কোনো পূর্বাভাসই ছিল না। সকালের খাবারের সময় হঠাৎ বাড়ির ছাদ কাঁপতে থাকে। তাঁরা কয়েকজন উঁচু জায়গায় সরে গেলেও  ছ-সাত জন বেরোতে পারেননি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ