কাঠমাণ্ডু ও গোরক্ষপুর: রাখে হরি, মারে কে! হড়পা বান বিধ্বস্ত নেপাল থেকে প্রাণ হাতে ফিরে এসেছেন উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরের এক যুবক। ওই বিধ্বংসী পরিস্থিতিতে তাঁর অভিজ্ঞতাও সকলকে শিহরিত করেছে। অন্যান্য দিনের মতোই গত সপ্তাহে নেপালের রসুয়া জেলার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে কাজে গিয়েছিলেন গোরক্ষপুরের আশুতোষ উপাধ্যায়। আচমকাই বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভিতরে ঢুকে পড়ে বন্যার জল। আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করে দেন কর্মীরা। চারদিকে তখন শুধু শোনা যাচ্ছিল, ‘ভাগো, ভাগো, পাওয়ারহাউসে জল ঢুকছে।’ জলের উচ্চতা বাড়তে থাকায় কর্মীরা একটি ছোট পাহাড়ের উপরে উঠে আশ্রয় নেন। কিন্তু সকলের ভাগ্য এতটা ভাল ছিল না। আশুতোষ জানান, রাহুল নামে এক কর্মী বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভিতরেই আটকে পড়েন। বেরোতে না পারায় সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর কথায়, ‘জলের তোড়ে ৩০-৪০ জন ভেসে গিয়েছিলেন।’ প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পাহাড়ে আশ্রয় নেওয়া কর্মীদের উদ্ধার করে ত্রিশূলী সেনা শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। পরে তাঁরা কাঠমাণ্ডুর একটি হোটেলে আশ্রয় নেন। তবে সেখানেও নতুন সমস্যা দেখা দেয়। বন্যায় তাঁদের পরিচয়পত্র-সহ সমস্ত নথি হারিয়ে যায়। পরে দূতাবাস থেকে নতুন নথি সংগ্রহ করে তাঁরা দেশে ফেরার সুযোগ পান।



