নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: কয়েকদিন আগে এসেছিলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ। এবার এলেন জিওলকিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার (জিএসআই) আধিকারিকরা। খতিয়ে দেখলেন পরিস্থিতি। সংগ্রহ করলেন নমুনা। তারপরেও গড়িয়ার ফর্তাবাদে সরকারবাড়ির দেওয়াল চুঁইয়ে তৈলাক্ত পদার্থ নিঃসরণের রহস্য উন্মোচিত হল না! বৃহস্পতিবার বাড়িটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে জিএসআই। সবটা ঘুরে দেখা এবং তাৎক্ষণিক পরীক্ষানিরীক্ষার পর তৈলাক্ত পদার্থের উৎস নিয়ে তারাও বিভ্রান্ত। তবে জিএসআইয়ের বিশেষজ্ঞরা প্রাথমিকভাবে মনে করছেন, এই পোড়া ভোজ্য তেলের উৎস মাটির নীচে কোথাও নয়। হাওয়ার উপাদানগুলির কোনও রকম ক্রিয়া-বিক্রিয়ায় এভাবে দেওয়াল চুঁইয়ে তেল বেরচ্ছে। তবে জিএসআই আধিকারিকরা এ ব্যাপারেও সম্পূর্ণ নিশ্চিত হতে পারছেন না। জিএসআইয়ের তরফে পরিদর্শনে এসেছিলেন সৌরভ খাঁ। তিনি বলেন, ‘নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরীক্ষা করা হবে। তবে প্রাথমিক ভাবে মনে হচ্ছে, এই পদার্থ মাটি থেকে আসছে না। হাওয়ায় কিছু একটা হচ্ছে।’
Advertisement
এদিকে, গত কয়েক সপ্তাহে দেওয়াল থেকে তেল বেরনোর পরিমাণ আরও বেড়েছে বলে জানালেন ওই বাড়ির সদস্যরা। এদিন জিএসআইয়ের দুই প্রতিনিধির সঙ্গে সরকারবাড়িতে আসেন রাজপুর সোনারপুর পুরসভার কয়েকজন সদস্যও। বাড়ির যে অংশ থেকে তেল বেরচ্ছে, সেই অংশ খুঁটিয়ে পরীক্ষা করেন দুই বিশেষজ্ঞ। বোঝার চেষ্টা করেন, কেন এমন ঘটনা ঘটছে। বাড়ির সদস্যদের বেশ কিছু প্রশ্ন করেন তাঁরা। তারপরও ওই দুই সদস্য নিশ্চিতভাবে কোনও সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি। দেওয়ালের বিভিন্ন দিকের ছবি ও ভিডিও তোলেন তাঁরা। তবে বেশ কিছু পরিস্থিতি তাঁদের কাছে অবাক করার মতো লেগেছে। যেমন, বাড়ির একাংশে তেল বেরলেও অন্যত্র তার কোনও ছাপ নেই। এটা কীভাবে সম্ভব, তা ভেবে দুই জিএসআই আধিকারিক বিস্মিত। দেওয়ালের যে অংশ থেকে তেল বেরচ্ছে, সেদিকে তাক করে একটি সিসি ক্যামেরা লাগানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ঘণ্টাখানেক তাঁরা বাড়ির বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখার পর দেওয়াল থেকে নমুনা সংগ্রহ করে বেরিয়ে যান। বাড়ির কর্ত্রী শম্পা সরকার বলেন, ‘দুই-তিন সপ্তাহ ধরে বেশি পরিমাণে তেল বেরচ্ছে। দেওয়ালের পাশে যে গাছপালা রয়েছে, তার পাতাগুলিও তৈলাক্ত হয়ে উঠেছে। আমরা রীতিমতো আতঙ্কে রয়েছি।’



