Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হাওড়ার শিবপুরে রাখা স্বামীজির পাগড়ি,  মাঘী পূর্ণিমায় দর্শনের সুযোগ পান ভক্তরা

হাওড়ার শিবপুরে রাখা স্বামীজির পাগড়ি,  মাঘী পূর্ণিমায় দর্শনের সুযোগ পান ভক্তরা
  • ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি হাওড়া: হাওড়ার শিবপুরে ঘোষ পরিবারের গৃহকর্ত্রীর আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়ে মাথা থেকে পাগড়ি খুলে উপহার দিয়েছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ। সেই পাগড়ি এখনও রাখা। বুধবার মাঘী পূর্ণিমা তিথিতে পাগড়ি দর্শন করতে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি ছাড়াও বহু দূর থেকে আসেন ভক্তরা। জানা গিয়েছে, এই ইতিহাসকে মর্যাদা দিতে রামকৃষ্ণপুর ঘাট যাওয়ার রাস্তায় তৈরি হচ্ছে তোরণ। ১৮ ফেব্রুয়ারি বেলুড় মঠের স্বামীজিদের উপস্থিতিতে উদ্বোধন হবে তোরণের।
Advertisement
শিকাগোর ধর্ম মহাসভা থেকে দেশে ফিরে রামকৃষ্ণ মিশনের কাজ প্রসারিত করতে স্বামীজি এসেছিলেন শিবপুরে রামকৃষ্ণপুরের নবগোপাল ঘোষের বাড়ি। এখানে তিনি ধ্যানে বসে রচনা করেন শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের পুজোর প্রণাম মন্ত্র ও সংকল্প। এ বাড়ির গৃহকর্ত্রী নিস্তারিণীদেবীকে উপহার দিয়েছিলেন মাথার পাগড়ি। তা দর্শনে প্রতিবছরই মাঘী পূর্ণিমা তিথিতে আসেন ভক্তরা। এদিনও সকাল থেকে ছিল মানুষের ঢল। বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত মন্দিরে হয় রামকৃষ্ণদেবের পুজো। তারপর প্রসাদ বিতরণ শেষে পাগড়ি দর্শনের সুযোগ মেলে। সে মন্দির প্রতিষ্ঠার ১২৮ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে রামকৃষ্ণপুর ঘাটের কাছে মন্ত্রী অরূপ রায়ের উদ্যোগে তৈরি হচ্ছে তোরণ। সেই কাজ শেষের পথে। ১৮ ফেব্রুয়ারি তোরণের উদ্বোধন। সে উপলক্ষ্যে উপস্থিত থাকবেন বেলুড় মঠের সভাপতি স্বামী গৌতমানন্দজি মহারাজ।
ঘোষ পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জানা গিয়েছে, ব্রিটিশ কোম্পানিতে উচ্চপদে কর্মরত ছিলেন পূর্বপুরুষ নবগোপাল ঘোষ। তিনি রামকৃষ্ণদেবের পরম ভক্ত। ১৮৯৮ সালে শিবপুরের বাড়িতে রামকৃষ্ণদেবের মন্দির প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেন। ঠাকুরের প্রতি তাঁর অগাধ ভক্তি দেখে মন্দির প্রতিষ্ঠার দিন ঘোষবাড়িতে আসেন স্বামীজি। ১৮৯৮ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি মাঘী পূর্ণিমা তিথিতে ১৫ গুরুভাইকে সঙ্গে নিয়ে বরানগরের আলমবাজার মঠের ঘাট থেকে তিনটি ডিঙি নৌকা ভাড়া করে হাওড়ার রামকৃষ্ণপুর ঘাটে পৌঁছন। গিরিশচন্দ্র ঘোষের লেখা গান গাইতে গাইতে পায়ে হেঁটে নবগোপালবাবুর বাড়ি উপস্থিত হন স্বামীজি। বাড়ির মন্দিরে ধ্যানে বসেন। তাঁর মুখেই প্রথম তৈরি হয় রামকৃষ্ণদেবের প্রণাম মন্ত্র-‘ওঁ স্থাপকায় চ ধর্মস্য’। কার নামে হবে পুজোর সংকল্প? শিষ্য প্রকাশানন্দের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছিলেন, ‘মা সারদার নামেই এখন থেকে হবে ঠাকুরের সংকল্প।’ পুজো শেষে গৃহকর্ত্রী নবগোপালবাবুর স্ত্রী নিস্তারিণীদেবীর হাতের রান্না খেয়ে মুগ্ধ হন স্বামীজি। উপহারস্বরূপ তুলে দেন ক্ষেত্রীর মহারাজ অজিত সিং বাহাদুরের কাছ থেকে পাওয়া রাজস্থানি পাগড়িটি। ১২৮ বছর ধরে স্বামীজির ব্যবহৃত সেই পাগড়ি সযত্নে বাড়িতে রয়েছে। পরিবারের চতুর্থ প্রজন্ম প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক সুব্রত ঘোষ বলেন, ‘স্বামীজি শুধু নন, দীক্ষা দিতে দু’বার বাড়িতে এসেছিলেন মা সারদামণি। তাঁর ব্যবহৃত জপমালা, শাড়ি আজও যত্ন করে রাখা। ভক্তদের কাছে এই বাড়ি প্রথম তীর্থ হিসেবে পরিচিত।’ -নিজস্ব চিত্র
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ