Bartaman Logo
১৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারিতে ‘দানা সোনা’ বালির দাম কমার আশা

বালির দাম শিল্পাঞ্চলে যেভাবে লাফিয়ে বেড়েছে, তারসঙ্গে শুধু তুলনা চলে সোনারই।

মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারিতে ‘দানা সোনা’ বালির দাম কমার আশা
  • ২৬ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: শিল্পাঞ্চলে এখন বালিই যেন ‘দানা সোনা’। বালির দাম শিল্পাঞ্চলে যেভাবে লাফিয়ে বেড়েছে, তারসঙ্গে শুধু তুলনা চলে সোনারই। অজয়, দামোদরের মাঝে থাকা আসানসোল, দুর্গাপুর শহরে বালির দাম বেশি ছিল না। বালির দাম বাড়তে শুরু করে যখন থেকে ই-টেন্ডারের মাধ্যমে ঘাটের বলে ব্লক নিলাম শুরু হয়। এক লাফে বালির দাম ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা ট্রলি হয়ে যায়। আর সরকার বদলের পর বালি কারবার রাজ্যজুড়ে স্তব্ধ হয়ে যায়। যার জেরে দুর্গাপুরে ১০০ ঘনমিটার(সিএফটি) বালি থাকা ট্রলির দাম পড়ছে ৭-৮ হাজার টাকা।

Advertisement

কেন এই অবস্থা? ব্যবসায়ীদের দাবি, সরকার বদলের পর অজয়, দামোদর থেকে বালি তোলা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। যার ফলে ঝাড়খণ্ড থেকে বালি আনতে হচ্ছে। তাতেই বিপুল দাম বেড়েছে বালির। একটা সময়ে বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সস্তায় মিলত বালিই। এখন সিমেন্টের দামকেও ছাপিয়ে যাচ্ছে বালির দাম। বালির এই আকাশ ছোঁয়া দামের জেরে বাড়ি নির্মাণ করতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। বালির এমন চড়া দাম থাকলে সরকারি প্রকল্পে বাড়ি পাওয়া মানুষজনও ওই টাকায় নির্মাণ সম্পন্ন করতে পারবে না। বিপাকে পড়বেন উপভোক্তারা। এই বিপুল বালির দামের জন্য ব্যবসায়ীরাও সংকটে। বালির অত্যাধিক দামের জন্য নির্মাণ কাজে ভাটা আসছে। তাতে হার্ডওয়ার ব্যবসায়ী থেকে ঠিকাদার, তাঁদের অধীনে থাকা শ্রমিকরাও কর্মহীন হয়ে পড়ছেন। এই সংকট থেকে বের করতে নতুন রাজ্য সরকারের কাছে তাঁরা বালির দাম নিয়ন্ত্রণের আর্জি জানাচ্ছেন। তাঁরা চান বালির দামের উপর যেন সরকারি নিয়ন্ত্রণ থাকে।
বালির দাব মাত্রাতিরিক্ত হয়ে যাওয়ায় বিগত সরকারের প্রতি মানুষের ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। শিল্পাঞ্চলজুড়ে চলা অবৈধ বালি কারবার নিয়ে রাজ্য রাজনীতি সরগরম হয়েছে। কোটি কোটি টাকার বালি কারবার করে প্রভাবশালীরা ফুলেফেঁপে উঠেছে। নদীর পাশের গ্রামে বাস করা সাধারণ মানুষকেও বিপুল অর্থের বিনিময়ে বালি কিনতে হয়েছে। সামান্য বালি নিতে গিয়েও হেনস্তার মুখে পড়তে হয়েছে বালি কারবারিদের শাগরেদদের হাতে।
সমস্যা কোথায়? জানা গিয়েছে, অজয় দামোদরে আর বালির ঘাট বণ্টন হয় না। কয়েক বর্গ কিলোমিটার জুড়ে থাকা বৃহৎ বালির ব্লক বণ্টন হয়। বড় সংস্থায় সেই বালির ব্লকের বরাত নিতে পারে। 
এবার তারা নদীতে পিপড়ের সারির মতো একের পর এক লরি, ডাম্পার দাঁড়িয়ে যায়। সেই লরি ও ডাম্পারে বালি বোঝাই করে কলকাতা ও শহরতলীতে পাঠিয়ে দেয়। ভারী বালির গাড়ি যাতায়াতে গ্রামের রাস্তা ভাঙছে। কিন্তু, আশপাশ এলাকার লোকজনকেও সেই বালি চড়া দামেই কিনতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে রাতের অন্ধকারে ট্রাক্টরে করে বালি তোলা হয়। অবৈধভাবে সেই বালি তোলার জন্য এলাকার প্রভাবশালীদের বিপুল টাকা ‘নজরানা’ দিতে হয়। যারফলে এক ট্রলির বালির দাম হু হু করে বেড়ে যায়। এতে সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ মানুষ থেকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।   দুর্গাপুরে প্রশাসনিক বৈঠক করতে এসে শুভেন্দু অধিকারী এ নিয়ে সরব হন। মুখ্যমন্ত্রী বালির দাম নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ দিয়েছেন। তা এখন দ্রুত কার্যকর হবে বলেই আশাবাদী বাসিন্দারা।-ফাইল চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ