Bartaman Logo
৭ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

স্পায়ের আড়ালে চলত মধুচক্র! ফাঁস স্থানীয়দের, পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ

ব্যস্ত দমদম রোডে স্পা ও ম্যাসাজ পার্লারের আড়ালে গজিয়ে উঠেছিল মধুচক্র! সোমবার রাতে পাড়ার বাসিন্দারা ওই স্পা সেন্টারে হানা দিয়ে চক্রের পর্দা ফাঁস করে।

স্পায়ের আড়ালে চলত মধুচক্র! ফাঁস  স্থানীয়দের, পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ
  • ২০ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: ব্যস্ত দমদম রোডে স্পা ও ম্যাসাজ পার্লারের আড়ালে গজিয়ে উঠেছিল মধুচক্র! সোমবার রাতে পাড়ার বাসিন্দারা ওই স্পা সেন্টারে হানা দিয়ে চক্রের পর্দা ফাঁস করে। সাতজন মহিলা ও চারটি ছেলেকে আটকে রাখা হয়। পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বহু বছর ধরে এই চক্র চলছে। অথচ, পুলিশ কিছু করেনি। এমনকি ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরও পুলিশ মামলা করেনি। যদিও পুলিশের দাবি, ধৃতদের ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা লিখিত অভিযোগ জানাতে অস্বীকার করায় সমস্ত কিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। 

Advertisement

দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের তানোয়ার কলোনির দমদম রোডের উপর কয়েক বছর ধরে স্পা ও ম্যাসাজ পার্লার চালানো হচ্ছিল। এলাকাবাসীর অভিযোগ, শুরু থেকে ওই সেন্টারে মধুচক্র চালানো হচ্ছিল। বহুবার বিভিন্ন স্তরে অভিযোগ জানিয়েও লাভ হয়নি। সোমবার রাতে স্থানীয় মানুষ ও ক্লাবের ছেলেরা একযোগে ওই সেন্টারে হানা দেয়। সেন্টারে যাওয়ার সময় থেকে মহিলাদের উদ্ধার ও তাঁদের স্বীকারোক্তি নেওয়ার সমস্ত ঘটনার ভিডিয়ো রেকর্ড করা হয়। দু’টি ঘরে সাত মহিলাকে পাওয়া যায়। এছাড়া চারজন ছেলেকেও ধরা হয়।
এলাকাবাসী চক্রের দুই পান্ডাকে চড় থাপ্পড় দিতে শুরু করেন। তারা প্রকাশ্যে এলাকার এক প্রভাবশালীর দুই সাগরেদকে মাসিক ১০ হাজার টাকা করে দিয়ে মধুচক্র চালানোর কথা স্বীকার করে নেয়। ঘরের ভিতর থেকে মদের বোতল, বেশ কিছু ডায়েরি পাওয়া যায়। যাতে প্রচুর মহিলার ফোন নম্বর সহ নানা তথ্য লেখা রয়েছে। এই ঘটনায় দমদম জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। খবর পেয়ে নাগেরবাজার থানার ঘুঘুডাঙা ফাড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে সাতজন মহিলা ও চার যুবককে আটক করে নিয়ে আসা হয়। ওই স্পা সেন্টারে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাতে আটক যুবক-যুবতীদের ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন দেওয়া হয়। ওই ঘরের মালিককে নোটিস করা হবে। কিন্তু পুলিশ সুয়োমুটো কেস না করায় এলাকায় তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এলাকায় মধুচক্র চলছে, নেতারা মাসোহারা নিচ্ছে, পুলিশ জানবে না এটা হতে পারে না। অথচ, এলাকাবাসী ধরে দেওয়ার পরও পুলিশ নির্বিকার। তার কারণ, পুলিশের মদত ছিল। বিক্ষোভে থাকা সুব্রত সাহা বলেন, বহুদিন ধরে এই মধুচক্র চলছিল। পাড়ার লোকেরা জোটবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ করেছে। এর বেশি কিছু বলতে পারব না। দমদমের বিজেপি নেতা গৌতম সাহা মণ্ডল বলেন, এসব তৃণমূলের অপশাসনের ফল। এই কারবার পাড়ায় পাড়ায় শুরু হয়েছে। এখানেও তৃণমূলের মাতব্বররা মাসোহারা নিত। পাড়ার লোক ধরায় এটা জানা গিয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ