নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: হিংস্র শ্বাপদের সঙ্গে ঘন জঙ্গলে, কিংবা ঝড়বৃষ্টির সময় উত্তাল নদীতে আগামী ১৫ দিন থাকবেন তাঁরা। মঙ্গলবার মধু সংগ্রহ করার ছাড়পত্র দিয়েছে বনদপ্তর। তা নিয়ে মৌমাছির সঙ্গে লড়াই করতে চললেন ৫৫ জন মধু সংগ্রহকারী।
নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: হিংস্র শ্বাপদের সঙ্গে ঘন জঙ্গলে, কিংবা ঝড়বৃষ্টির সময় উত্তাল নদীতে আগামী ১৫ দিন থাকবেন তাঁরা। মঙ্গলবার মধু সংগ্রহ করার ছাড়পত্র দিয়েছে বনদপ্তর। তা নিয়ে মৌমাছির সঙ্গে লড়াই করতে চললেন ৫৫ জন মধু সংগ্রহকারী।
প্রায় আধ মাস ছেলেমেয়ের মুখ দেখতে পারবেন না। জঙ্গলে নানা ধরনের জানা-অজানা আতঙ্ক। তার মধ্যে বিপদকে সঙ্গী করে মধু খুঁজতে চললেন তাঁরা। মঙ্গলবার রওনা হওয়ার আগে বাড়ি থেকে বেরনোর সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন। কেউ শিশুসন্তানকে আদর করলেন। চোখে জল তাঁর। কারও স্ত্রী দেবতার বরাভয় চিহ্ন স্বামীর কপালে ছুঁইয়ে প্রণাম করলেন। মঙ্গলবার কুলতলির বহু ঘরে এই চিত্র। এরপর নৌকা ভাসালেন নদীতে। চলবে ১৫ দিন ধরে জঙ্গল-নদীতে কঠিন সংগ্রাম। বাংলা বছরের প্রথম দিনে বাড়ির কর্তা বাড়িতে থাকবেন না, মন স্বাভাবিকভাবেই খারাপ গৃহকর্ত্রীদের।
ঝড়খালির অরূপ মল্লিক, কুলতলির রবি মণ্ডল, উসমান মোল্লা। ১৫ বছর ধরে তাঁরা সুন্দরবনের বিভিন্ন জঙ্গলে গিয়ে মধু সংগ্রহ করছেন। কীভাবে মধু সংগ্রহ করেন? দুপুরে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে মৌমাছির একটি চাকের কাছে দাঁড় করিয়ে পদ্ধতিটি দেখালেন তাঁরা। প্রথমে হেতাল পাতার দু’টি গোছা বানান। তাতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে গলগল করে ধোঁয়া বেরয়। মৌমাছির চাকের সামনে ধোঁয়া দেন। মৌমাছিরা উড়ে পালায়। এরপর এক ধার থেকে চাকের একটি অংশ কেটে তা পাত্রে ঢুকিয়ে দেন। তাঁরা জানালেন, মধু সংগ্রহ চলে দু’মাস। ভয়, বিপদ এবং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দিনের পর দিন জঙ্গলে ঘুরতে হয়। এদিন তাঁদের ছাড়পত্র দেওয়ার সময় কিছু পরামর্শ দেন বনবিভাগের আধিকারিকরা। সুন্দরবন বায়োস্পিয়ারের অধিকর্তা নীলাঞ্জন মল্লিক বলেন, ‘তাঁদের নির্দিষ্ট রুটের মধ্যে থাকতে বলা হয়েছে। তার বাইরে গিয়ে মধু সংগ্রহ না করার নির্দেশ। বনবিভাগের ক্যাম্প অফিসে রাত কাটাতে হবে তাঁদের। জঙ্গলে ওঁদের জন্য পুলিস ও বনবিভাগের নৌকা টহল দেবে।’ প্রসঙ্গত এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা বনবিভাগ এবং সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভ মিলিয়ে প্রায় ২৫ টন মধু সংগ্রহের টার্গেট দিয়েছে ফরেস্ট ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন। -নিজস্ব চিত্র