সংবাদদাতা, ডোমকল: ডোমকলের জিৎপুর সংরক্ষিত বনাঞ্চল। খাতায় কলমে ‘সংরক্ষিত’ ট্যাগ থাকলেও কাঠ মাফিয়াদের দৌরাত্ম্যে কবেই হাপিশ হয়ে গিয়েছে বড়ো বড়ো গাছগুলি। শুধু গাছ নয়, বনাঞ্চলের জায়গা দখল করে গড়ে তোলা হয়েছিল ছোটো-বড়ো-মাঝারি কাঁচা থেকে পাকা বাড়ি। বছরের পর বছর ধরে সেখানেই বাস করছিল প্রায় শতাধিক পরিবার। রাজ্যে পালাবদল হতেই এবার তাদের হাতে উচ্ছেদের নোটিস ধরাল বনদপ্তর। দিনকয়েক আগেই নদীয়া মুর্শিদাবাদ বন বিভাগের বহরমপুর দক্ষিণ রেঞ্জের তরফে তাদের হাতে নোটিস ধরানো হয়েছে। আর তাতেই রাতের ঘুম উবেছে ওইসব পরিবারের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ডোমকলের জিৎপুর ও সংলগ্ন এলাকাজুড়ে একসময় বিশাল বনাঞ্চল ছিল। একসময় ওই বনের আশপাশ দিয়ে যেতে অনেকের ভয় করত। তবে এখন সেসব অতীত। এলাকার দাপুটে নেতাদের দৌলতে বছর দশকের মধ্যে বনের বেশিরভাগ বড়ো গাছ কেটে হাপিশ করে দেওয়া হয়েছে। তবে শুধু গাছই নয়, বনদপ্তরের নজরদারির অভাবে জায়গা দখল করে তৈরি হয়েছে বাড়ি। খোদ পুরসভার বিরুদ্ধে বনদপ্তরের জায়গায় খেলার মাঠ করার অভিযোগ উঠেছিল। তবে এতদিন এনিয়ে খুব বেশি উচ্চবাচ্য করতে দেখা যায়নি বনদপ্তরকে। ফলে বন দখল হয়ে পাড়া গজিয়ে উঠেছিল। রাজ্যে পালাবদলের পর সেই সব বাড়ি-ঘর সরিয়ে নেওয়ার জন্য নোটিস ধরাল বনদপ্তর। দিন কয়েক আগেই বনদপ্তরের তরফে বেশ কয়েকজনকে নোটিস ধরিয়ে ওই জায়গা খালি করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে, তারা বনদপ্তরের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে রয়েছে। যেটা ভারতীয় বন আইন-১৯২৭ কে লঙ্ঘন করছে। ১৪ দিনের মধ্যে ওই জায়গা খালি করে দিতে হবে। যদি তা না হয়, তাহলে বনদপ্তর আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।
রিনা বিবি নামে এক মহিলা বলেন, প্রায় ১৮ বছর ধরে আমরা এখানে রয়েছি। তিলে তিলে টাকা জমিয়ে বছর তিনেক আগেই বাড়ির ছাদ ঢেলেছি। এতদিন বনদপ্তর কিছু বলেনি। বাধাও দেয়নি। হঠাৎ করেই এখন বনদপ্তর আমাদের নোটিস দিয়ে ১৪ দিনের মধ্যে সরে যেতে বলেছে। আমাদের অন্য কোথাও জায়গা নেই। কোথায় মাথা গুঁজব, কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না।
নাজুফা খাতুন বলেন, আমার শ্বশুর-শাশুড়ি প্রায় আড়াই দশক ধরে জিৎপুর নতুনপাড়ায় বাস করেছে। এখন দপ্তরের তরফে আমাদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়ার জন্য নোটিস দেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এখান থেকে সরে গিয়ে কোথায় উঠব, বুঝে উঠতে পারছি না। মানবিকভাবে বিবেচনা করে আমাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হলে ভাল হয়।