নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: মিষ্টিতে মেশানো হচ্ছে হোলি খেলার রং! আরামবাগে অভিযান চালানোর সময় মিষ্টির দোকান থেকে এমনই একটি রংয়ের কৌটো পেলেন খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা। তাছাড়া বিরিয়ানিতেও মেশানো হয় ক্ষতিকর রং। চোখের সামনে সেসব অনিয়ম দেখে নষ্ট করে দেওয়া হল প্রচুর বিরিয়ানি। এছাড়া দু’টি দোকান বন্ধের নির্দেশও দেওয়া হয়। আরামবাগে বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর, পুরসভা ও পুলিশের যৌথ অভিযান ঘিরে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এদিন অভিযানের দলে ছিলেন ফুড সেফটি অফিসার যদুনাথ হেমব্রম, শাল্মলী দত্ত।
যদুনাথবাবু বলেন, রান্না করা খাবারে কোনো রং মেশানো নিষিদ্ধ। তারপরেও বিরিয়ানিতে রংয়ের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে। এদিন সেসব খাবার নষ্ট করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানো হচ্ছে। মিষ্টির দোকানে হোলির রংয়ের কৌটো মিলেছে। মিষ্টির দোকানদার স্বীকারও করেছেন আগে ব্যবহার করতেন। এখন আর করেন না। সমস্ত অনিয়ম রেকর্ড করে রিপোর্ট পাঠানো হচ্ছে। আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ধরণের রং খাবারে মেশার পর তা খেলে শরীরে গেলে খুবই ক্ষতি করে।
আরামবাগে রাস্তার ধারে বহু রেস্টুরেন্ট রয়েছে। তারা কোনো খাদ্য সুরক্ষাবিধি মানে না বলে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ ছিল। অবশেষে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে শুরু হয়েছে অভিযান। এদিন দুপুর ১২টা নাগাদ আরামবাগ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালায় খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা। তাতেই সকলের চোখ কপালে উঠেছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেই চলছে বিরিয়ানি রান্না। আধিকারিকরা প্রথমে একটি রেস্টুরেন্টে হানা দেন। সেখানকার পরিবেশ দেখেই তাঁরা আসন্তোষ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি বিরিয়ানির জন্য প্রস্তুত করা চিকেন, আলুতে যে রং ব্যবহার করা হয়েছে তারও প্রমাণ পান। অন্যান্য প্রায় সব দোকানেই নানা অনিয়ম ধরা পড়ে।
আরামবাগ শহরে নেতাজি স্কয়ার সংলগ্ন একটি মিষ্টির দোকানে যান খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের কর্তারা। সেখানে মিষ্টি তৈরির জায়গায় ছোটো রংয়ের কৌটো দেখতে পান আধিকারিকরা। তাঁদের দাবি, ওই রং হোলি খেলতে ব্যবহার করা হয়। তা নিয়ে মিষ্টি ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, বছর দু’য়েক আগে দেওয়া হত। এখন আর ব্যবহার করা হয় না।
খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন আরামবাগ শহরে সাতটি জায়গায় হানা দেন আধিকারিকরা। তারমধ্যে চারটি বিরিয়ানির দোকান, দু’টি মিষ্টির দোকান ও গৌরহাটি মোড় এলাকার একটি চানাচুর ফ্যাক্টরিতে যান। ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড অথরিটি অর ইন্ডিয়ার লাইসেন্স না থাকার অভিযোগে একটি মিষ্টি ও একটি বিরিয়ানির দোকান এদিনই বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া রং দেওয়ায় বিরিয়ানির জন্য প্রস্তুত করা ৩০ কেজি করে আলু ও চিকেনের পিস নষ্ট করে দেওয়া হয়। পৃথক দোকানগুলি থেকেও রং দেওয়া বিরিয়ানি নষ্টের নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রায় পাঁচ কেজি চিকেন তন্দুরিও নষ্ট করতে বলা হয়। এছাড়া অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরির জন্য অধিকাংশ দোকানের বিরুদ্ধেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। চানাচুর, মিষ্টি ও বিরিয়ানিতে ব্যবহৃত তেলের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবেও পাঠানো হচ্ছে। টেস্টে ফল খারাপ এলে দোকানগুলির মোটা অংকের জরিমানা হতে পারে।
আরামবাগের একটি মিষ্টির দোকানে হানা খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকদের।-নিজস্ব চিত্র