


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পাক্কা এক দশক পর চলতে শুরু করল নিউ মার্কেটের ঐতিহ্যবাহী ঘড়ি। ‘ঢং ঢং’ আওয়াজ ফিরল হগ মার্কেট চত্বরে। বাজারের ১৫২ বছর পূর্তি বর্ষে আবার চলতে শুরু করল ক্লক টাওয়ারের ঐতিহ্যশালী বড়ো ঘড়ির কাঁটা। ফের গম্ভীর ঘণ্টার আওয়াজের মুখর ধর্মতলা।
১৮৭৪ সালের পয়লা জানুয়ারি চালু হয়েছিল হগ মার্কেট। তৎকালীন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ইংরেজদের জন্য বাজার তৈরি করার। তারপর ইস্ট ইন্ডিয়া রেলওয়ে কোম্পানির আর্কিটেক্ট এই বাজারের নকশা তৈরি করে। ম্যাকিনটস বার্ন বাজার নির্মাণ করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মার্কেটের দক্ষিণে ক্লক টাওয়ার নির্মাণ করা হয়। ঘড়িটি আনা হয় ইংল্যান্ডের হার্ডসফিল্ড থেকে। পরে স্যর স্টুয়ার্ড হগের নাম অনুসারে বাজারের নামকরণ, এসএস হগ মার্কেট। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় ঘড়িটি চলছিল। তবে বয়সের ভারে ধীরে ধীরে নানা সমস্যা দেখা দিতে থাকে। সামান্য সংস্কার করা হলেও বছর দশেক আগে থেমে যায় ঘড়ির কাঁটা।
একসময় ব্যস্ত ধর্মতলায় যে ঘড়িটি ঘণ্টা বাজিয়ে সময় জানাত, হগ মার্কেটের সেই ক্লক টাওয়ার সংস্কারের অভাবে হয়ে পড়ে জীর্ণ। টাওয়ারের গায়ে জন্মায় গাছ-গাছালি। ঘড়িটিও যায় বন্ধ হয়ে। জানা গিয়েছে, এই ক্লক টাওয়ার এবং তার পরিকাঠামো আনা হয়েছিল ইংল্যান্ডে হার্ডসফিল্ড থেকে। নিউ মার্কেটের ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ২০২৪ সাল থেকে ঘড়িটি চালানোর তোড়জোড় শুরু হয়।
পুরসভা সূত্রে খবর, কর্তৃপক্ষের ইচ্ছা থাকলেও আর্থিক অনটনের জেরে প্রথমে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যায়নি। তারপর ঐতিহ্য রক্ষায় এগিয়ে আসেন কলকাতার কিছু ঐতিহ্যপ্রেমী নাগরিক। তাঁরা মেয়র ফিরহাদ হাকিমের কাছে ঘড়ি সারানোর আবেদন করেন। আর্থিক খরচ তাঁরাই বহন করেছেন। পুর কর্তৃপক্ষ সেই আবেদন মঞ্জুর করে। ক্লক টাওয়ারকে ফের স্বমহিমায় নিয়ে আসার দায়িত্ব নেন আর্কিটেক্ট অঞ্জন মিত্র। তিনি বলেন, এমন ধরনের কোনও হেরিটেজ পুরনো অবস্থায় ফেরানোর মতো যে কোনও কাজই চ্যালেঞ্জ। আমরা ক্লক টাওয়ারের কাঠামো সংস্কার করেছি। অন্য একটি গ্রুপের কর্ণধার সত্যজিৎ দত্ত ও স্বপন দত্ত ঘড়িটি ঠিক করেছেন। যে ধরনের উপকরণ দিয়ে ওই ক্লক টাওয়ার তৈরি হয়েছিল, সংস্কারে আমরা সেই সমস্ত উপকরণই ব্যবহার করেছি। পুরসভার বাজার বিভাগের মেয়র পারিষদ আমিরুদ্দিন (ববি) বলেন, পুরসভা আগেই ঘড়িটি সারানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু অনেক যন্ত্রাংশই পাওয়া যাচ্ছিল না। আমরা টেন্ডার দিয়েছিলাম। বিপুল খরচের কারণে তা বাতিল করতে হয়। একটি সংগঠন সংস্কারের অনুরোধ করে। আমরা মঞ্জুর করি। নিউ মার্কেটে শিশুদের রং-খাতার দোকানের মহম্মদ আফরোজ বলেন, ‘তিন প্রজন্মের দোকান আমাদের। ছোটবেলায় দেখেছি, এই ঘড়ি প্রতি ঘণ্টায় বেজে উঠত। কিন্তু এত বছর বন্ধ হয়ে পড়েছিল। আবার সেই মুহূর্ত ফিরে এসেছে।’