সুদীপ্ত কুণ্ডু, হাওড়া: ঝাঁ চকচকে প্ল্যাটফর্ম। পরপর রয়েছে নামীদামি সংস্থার ফুড কোর্ট, ক্যান্টিন থেকে শুরু করে ফাস্টফুডের রকমারি স্টল। অথচ সেখানেই বিক্রি হচ্ছে মেয়াদ উত্তীর্ণ দুগ্ধজাত ঠান্ডা পানীয়। খোদ হাওড়া স্টেশনের নিউ কমপ্লেক্সের সাউথ কনকোর্সের সামনে একটি ফুড স্টলে মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়া পানীয় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার সকালে এক যাত্রী সেখান থেকে আইসড কফি কিনতেই ধরা পড়ে এই ঘটনা। এরপরেই দক্ষিণ-পূর্ব রেলের চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজারের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই যাত্রী।
Advertisement
মঙ্গলবার সকালে সপরিবারে পুরী ঘুরতে যাবেন বলে হাওড়া স্টেশনে আসেন হুগলির বাসিন্দা পেশায় ইঞ্জিনিয়ার দেবদত্ত মুখোপাধ্যায়। ট্রেন ছাড়তে বেশ কিছুটা সময় বাকি থাকায় নিউ কমপ্লেক্সের ২৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মের সাউথ কনকোর্সের কাছে একটি ফাস্টফুডের স্টল থেকে আইসড কফি কেনেন তিনি। টিনের ক্যানবন্দি সেই ঠান্ডা কফিতে চুমুক দিতেই গা গুলিয়ে ওঠে তাঁর। এরপর ক্যানের গায়ে ম্যানুফ্যাকচারিং তারিখ দেখে চোখ কপালে ওঠার জোগাড় দেবদত্তবাবুর। দেখা যায়, একটি নামী ডেয়ারি সংস্থার সেই ঠান্ডা কফি গত বছরের আগস্ট মাসে তৈরি হয়েছিল। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেই তার মেয়াদ ফুরিয়েছে। এরপর সেই স্টলে গিয়ে তিনি বিষয়টি জানান। স্টলের কর্মীরা প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে রেলের কাছে অভিযোগ না জানানোর জন্য দেবদত্তবাবুকে অনুনয় বিনয় করতে থাকেন। দেবদত্তবাবু বলেন, ‘আমাকে বারবার করে বলা হচ্ছিল, আমি যেন অভিযোগ না জানাই। অথচ এই পানীয় যদি কোনও শিশুর পেটে যেত, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে তার শরীর খারাপ অনিবার্য ছিল। খাবারের মেয়াদ নিয়ে যে একেবারেই নজরদারি নেই, তা স্পষ্ট।’ এরপর দক্ষিণ-পূর্ব রেলের চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজারের কাছে ওই ফুড স্টল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।
বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে রেল। ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড অথরিটি অব ইন্ডিয়ার এক কর্তা বলেন, ‘রেলের তরফে ছোট-বড় বিভিন্ন সংস্থাকে এই স্টলগুলি চালানোর জন্য টেন্ডার দেওয়া হয়। স্টল কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতার কারণেই এমনটা হয়েছে। যেহেতু অভিযোগ দায়ের হয়েছে, তাই ফুড সেফটি আইন অনুযায়ী অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ যাত্রীদের একাংশ বলছে, অমৃত ভারত প্রকল্পে কেন্দ্রীয় সরকার ভারতীয় রেলকে ঢেলে সাজাচ্ছে। বিমানবন্দরের আদলে বদলে যাচ্ছে রেল স্টেশনের আদব-কায়দা। অথচ ঝাঁ চকচকে ফুড স্টলগুলিতে মেয়াদ উত্তীর্ণ পানীয় বিক্রি হচ্ছে। ট্রেন ধরার তাড়া থাকায় অনেকেই ম্যানুফ্যাকচারিং ডেট দেখে কেনেন না। তাছাড়া কাচের র্যাকের ভিতর আমিষ ও নিরামিষ যে সমস্ত স্যান্ডউইচ, বার্গার জাতীয় খাবার বিক্রির জন্য রাখা হয়, সেগুলির মেয়াদও জানতে পারেন না যাত্রীরা।
বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে রেল। ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড অথরিটি অব ইন্ডিয়ার এক কর্তা বলেন, ‘রেলের তরফে ছোট-বড় বিভিন্ন সংস্থাকে এই স্টলগুলি চালানোর জন্য টেন্ডার দেওয়া হয়। স্টল কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতার কারণেই এমনটা হয়েছে। যেহেতু অভিযোগ দায়ের হয়েছে, তাই ফুড সেফটি আইন অনুযায়ী অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ যাত্রীদের একাংশ বলছে, অমৃত ভারত প্রকল্পে কেন্দ্রীয় সরকার ভারতীয় রেলকে ঢেলে সাজাচ্ছে। বিমানবন্দরের আদলে বদলে যাচ্ছে রেল স্টেশনের আদব-কায়দা। অথচ ঝাঁ চকচকে ফুড স্টলগুলিতে মেয়াদ উত্তীর্ণ পানীয় বিক্রি হচ্ছে। ট্রেন ধরার তাড়া থাকায় অনেকেই ম্যানুফ্যাকচারিং ডেট দেখে কেনেন না। তাছাড়া কাচের র্যাকের ভিতর আমিষ ও নিরামিষ যে সমস্ত স্যান্ডউইচ, বার্গার জাতীয় খাবার বিক্রির জন্য রাখা হয়, সেগুলির মেয়াদও জানতে পারেন না যাত্রীরা।



