নয়াদিল্লি ও ঢাকা: বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতিতে ‘সম্মিলিত প্রচেষ্টা’ প্রয়োজন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের সঙ্গে বৈঠকে এমনই বার্তা দিলেন ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি। সোমবার ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’য় প্রায় ৪০ মিনিট আলোচনা হয় দু’জনের। বৈঠকে ইউনুস বলেছেন, দুই দেশের সম্পর্ক ‘খুবই দৃঢ় ও আন্তরিক’। তবে বিভিন্ন কারণে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কের মধ্যে কালো মেঘ তৈরি হয়েছে। সেই মেঘ দূর করতে হবে। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে বসে যেসব বিবৃতি দিচ্ছেন, তাতে উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে। এবিষয়ে আমাদের দেশের মানুষ উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের নিরাপত্তা ও তাঁদের অধিকার নিশ্চিত করতে দায়বদ্ধ অন্তর্বর্তী সরকার। যদিও তা সত্ত্বেও কেন হিন্দুদের উপর হামলা থামছে না, সেবিষয়ে নিরুত্তর ইউনুস ও তাঁর প্রশাসন। উল্লেখ্য, আগস্টে শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর এই প্রথম ভারত সরকারের কোনও শীর্ষ আধিকারিক বাংলাদেশে গেলেন। সোমবার প্রথমে বাংলাদেশের বিদেশ সচিব মহম্মদ জসিমউদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিদেশ উপদেষ্টা মহম্মদ তৌহিদ হোসেনের সঙ্গেও কথা বলেন। বৈঠকের পর মিস্রি জানান, বাংলাদেশের মাটিতে যেভাবে হিন্দু সহ অন্য সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন চলছে, তা ‘দুঃখজনক’। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সঙ্গে ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্কই বজায় রাখতে চায় দিল্লি। বিদেশ সচিব জানান, ভারত যে বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সঙ্গে হাত ধরাধরি করে কাজ করতে চায়, সেই বিষয়টি তিনি এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
Advertisement
সোমবার সকালে ভারতীয় বায়ুসেনার বিমানে ঢাকা পৌঁছান মিস্রি। প্রথমে জসিমউদ্দিনের সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেন তিনি। পরে বিক্রম মিস্রি জানান, হিন্দুদের উপর অত্যাচার নিয়ে দিল্লির উদ্বেগের বিষয়টি তিনি ঢাকার সামনে তুলে ধরেছেন। বিদেশ উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনাতেও হিন্দু মন্দির ও অন্যান্য উপাসনাস্থলের উপর আক্রমণের বিষয়টি নিয়েও ভারতের পক্ষে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। মিস্রি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে খোলামেলা ও গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের পক্ষে গঠনমূলক ও উভয়ের লাভজনক হবে এমন সম্পর্ক আশা করে ভারত।’ সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের বিষয়ে বিদেশ সচিব বলেন, ‘আমরা সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি নিয়ে আলোচনা করেছি। সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও উন্নয়ন নিয়ে আমাদের উদ্বেগের কথা বলেছি। একইসঙ্গে ধর্মীয়স্থলে হামলার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।’ এরপর বিকেলে ইউনুসের সঙ্গে দেখা করেন বিদেশ সচিব। বৈঠকের পরে মিস্রি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের তরফে পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সাংবাদিক বৈঠক করেন। সৈয়দা দাবি করেন, যে সব হামলার অভিযোগ উঠেছে, সেগুলি বেশিরভাগই রাজনৈতিক কারণে হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার অভিযুক্তদের কোনওভাবেই বরদাস্ত করছে না।



