তেহরান: হীরক রাজার দেশ। প্রজারা রাজার বিরুদ্ধে গেলেই পাঠিয়ে দেওয়া হত যন্তর-মন্তর ঘরে। আর সেখানেই চলত মগজ ধোলাইয়ের কাজ। হিজাব বিরোধী মহিলাদের জন্য ইরানের নয়া পদক্ষেপ যেন আরও একবার সেই দৃশ্যই মনে করিয়ে দিল। শুক্রবার ইরানের নারী ও পরিবার সংক্রান্ত বিভাগের প্রধান মেহরি তালেবি দারেস্তানি জানান, এবার হিজাব বিরোধী মহিলাদের মানসিক চিকিৎসা করা হবে। আর সেই সূত্রেই খোলা হবে ‘ট্রিটমেন্ট ক্লিনিক’।
Advertisement
এদিন তালেবি জানান, যাঁরা হিজাব পরতে চান না, এই ক্লিনিকে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে তাঁদের মানসিক চিকিৎসা করা হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কথা মাথায় রেখেই এই ক্লিনিকের পরিকল্পনা। ওই দেশের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেইয়ের আওতায় রয়েছে ইরানের মহিলা ও পরিবার বিভাগ। তাই এই পরিকল্পনার নেপথ্যে তিনিই কলকাঠি নেড়েছেন বলে দাবি করেছে ইরান সহ বিশ্বের একাধিক মানবাধিকার সংগঠন। বিষয়টির কড়া সমালোচনা করেছে তারা। দিন কয়েক আগেই ইরানের কঠোর পোশাকবিধির প্রতিবাদ করছিলেন এক তরুণী। শুধু অন্তর্বাস পরেই বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে হাঁটেন তিনি। এরপরই তাঁকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় পুলিস। তাঁর আর খোঁজ মেলেনি। হিজাব আইনের বিরোধিতায় সরব হয়ে ২০২২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর প্রাণ হারান ইরানের ২২ বছরের তরুণী মাশা আমিনি। হিজাব পরার বিরোধিতা করায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে ইরানের পুলিস। অভিযোগ তাঁর উপর পাশবিকভাবে অত্যাচার চালানো হয়। পরে পুলিসি হেফাজতেই মৃত্যু হয় তাঁর। মাসার মৃত্যুর পরেই হিজাব বিরোধী আন্দোলন শুরু হয়েছে।



