সংবাদদাতা, কল্যাণী: টানা পাঁচ দিন ধরে হাসপাতাল চত্বরের খোলা জায়গায় পড়ে রয়েছেন এক এইচআইভি পজিটিভ রোগী। জরাজীর্ণ মানুষটার গায়ে সামান্য কাপড়টুকুও নেই। সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সের পাশে টিনের শেডের নীচে একটি স্ট্রেচারের উপর পড়ে রয়েছেন সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধ। মাছি-মশা ভন ভন করছে চারপাশে। বেরচ্ছে দুর্গন্ধও। অথচ হাসপাতাল চত্বরে কেউ তাঁর দিকে ফিরেও দেখছে না। চিকিৎসক বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ—কারও হুঁশ নেই। কল্যাণীর কলেজ অব মেডিসিন অ্যান্ড জেএনএম হাসপাতালের বহির্বিভাগের সামনে এমন অমানবিক দৃশ্য চোখে পড়ছিল গত ক’দিন। অবশেষে রবিবার বেলার দিকে বিষয়টি নিয়ে হইচই শুরু হওয়ায় মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি ওই বৃদ্ধকে ওয়ার্ডে ভর্তি করানোর ব্যবস্থা করে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই বৃদ্ধের বাড়ি চাকদহ ব্লকে। গত মাসের ২৭ তারিখ তাঁর ছেলে তাঁকে এই হাসপাতালে এনেছিলেন। অসুস্থতার গুরুত্ব বুঝে তখন তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানোও হয়। দিন পাঁচেক আগে ছুটি দিয়ে বলা হয়, এইচআইভি পজিটিভ ধরা পড়েছে। কল্যাণীতে এর চিকিৎসা না হওয়ায় রোগীকে কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। অভিযোগ, চিকিৎসকের কাছে বাবার ‘এইচআইভি পজিটিভ’ শুনেই বৃদ্ধের ছেলে বহির্বিভাগের সামনে তাঁকে ফেলে রেখে পালায়। তারপর থেকে সেখানেই পড়েছিলেন বৃদ্ধ। এ বিষয়ে ওই মেডিক্যাল কলেজের সুপার ডাঃ অতনু বিশ্বাস বলেন, ‘ওই রোগের চিকিৎসা এখানে না হওয়ার কারণেই রোগীকে অন্যত্র ভর্তি করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু তাঁর ছেলে বহির্বিভাগের সামনে ফেলে রেখে চলে গিয়েছে। ছেলেকে বারবার ফোন করা হলেও সে ধরছে না। আপাতত ওই বৃদ্ধকে বেডে দিয়ে প্রাথমিক কিছু চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।’ নিজস্ব চিত্র