নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: চুঁচুড়ার ঐতিহ্যবাহী ঘড়ি মিনার অন্ধকারে ডুবে রয়েছে। প্রায় একমাস ধরে আঁধার ব্রিটিশ আমলে তৈরি ঘড়ি মিনার। ঐতিহ্যের শহরে ঐতিহ্যবাহী স্মারকের এই দুর্দশা নিয়ে সরব সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ ও আমজনতা। এই বেহাল দশার জন্য তাঁরা আঙুল তুলছেন পুরসভা ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে।
প্রসঙ্গত ঘড়ি মিনারের নামেই স্থানীয় এলাকাটি পরিচিতি পেয়েছে ‘ঘড়ি মোড়’ নামে। শহরের নাগরিকদের জমায়েত হয় এখানে। কাছেই রয়েছে তৃণমূলের দপ্তর। রয়েছে জেলা পরিষদ ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের অফিস। অভিযোগ, ঘড়ি মিনারের বেহাল দশা নিয়ে সকলেরই মুখে কুলুপ। সকলেই উদ্যোগহীন।
চুঁচুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান অমিত রায় অবশ্য বেহাল দশার জন্য আঙুল তুলেছেন রাজ্যের পূর্তদপ্তরের বিরুদ্ধে। চেয়ারম্যান বলেন, ‘মিনারের তত্ত্বাবধান করে পূর্তদপ্তর। তাদের বিদ্যুৎ বিভাগকে সমস্যার কথা জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনও উদ্যোগ নিতে আমি অন্তত দেখিনি। দীর্ঘদিন ধরে ঐতিহ্যবাহী স্মারকের আলো জ্বলছে না। আমি বারবার প্রশাসনের কর্তাদের বলেছি। কিন্তু কোনও কাজ হয়নি।’ ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন শহরের সাংস্কৃতিক কর্মী সৌমিত্র সিংহও। তিনি বলেন, ‘ঐতিহ্যকে ধরে রাখার জন্য যেখানে উদ্যোগে প্রয়োজন সেখানেও অদ্ভুত অবহেলা। এর শিকার ঘড়ি মিনারও।’ স্থানীয় ইতিহাস নিয়ে চর্চা করেন সপ্তর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘আধাঁরে ডুবেছে ইংল্যান্ডের রাজা সপ্তম এডওয়ার্ডের স্মারক। দিনের পর দিন অবহেলা হচ্ছে। পুরসভা থেকে প্রশাসন সকলেই নির্বিকার। ঐতিহ্যের এই মলিন দশায় আক্ষেপ হয়।’ হুগলি জেলা পরিষদের মেন্টর ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সুবীর মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘আমি বিষয়টি জানতাম না। অবিলম্বে পূর্তদপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলব। সংস্কৃতি আমাদের শিকড়। অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না।’
রানি ভিক্টোরিয়ার বড় ছেলে সপ্তম এডওয়ার্ড ১৯০১ সালে রাজা হয়েছিলেন। তখন ভারতবর্ষ পরাধীন। ১৯১০ সালে এডওয়ার্ড প্রয়াত হন। ১৯১৪ সালে তদানীন্তন চুঁচুড়ায় কিং এডওয়ার্ডের সম্মানে একটি স্মারক মিনার ও ঘড়ি বসানো হয়েছিল। নকশা কাটা অলঙ্কারসজ্জিত এই মিনার সেই ইস্তক চুঁচুড়াতে রয়েছে। পরবর্তী সময় রাজ্য সরকার ঐতিহ্য সংরক্ষণের কাজ করলেও বর্তমানে সেই উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ প্রায় একমাস ধরে ঘড়ি মিনারের বর্ণময় আলোকসজ্জার একটি বাতিও জ্বলছে না। অন্ধকারাচ্ছন্ন ঐতিহ্যের মিনার। নিজস্ব চিত্র