নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাড়ি দখলমুক্ত করার জন্য ভাড়া করা গুন্ডা এখন ইডি হেফাজতে রয়েছে। বাড়ি খালি করার বরাত নগদে এসেছে। এই বিষয়টি অভিযুক্ত বলে দিয়েছে কেন্দ্রীয় এজেন্সির কাছে। তাই নাম জড়িয়ে গিয়েছে বাড়ির মালিকের। ইডিকে সেটিং করতে লাগবে ৯০ লক্ষ টাকা। তা না হলে, বাড়ির মালিককে ইডি গ্রেপ্তার করবে। ‘ইডি জুজু’তে ভয় পেয়ে মোটা টাকা দিয়ে প্রতারিত হলেন গড়িয়াহাটের বাসিন্দা এক ব্যক্তি। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে ক্যামাক স্ট্রিট ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে গড়িয়াহাট থানা। অরুনাভ মুখোপাধ্যায় নামে ওই অভিযুক্ত নীলবাতির গাড়ি নিয়ে এলাকায় ঘুরে বেড়াত। সে নিজেকে তৃণমূলের প্ল্যানিং কমিটির সদস্য বলে পরিচয় দিত বলে জেনেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গড়িয়াহাটের বাসিন্দা অভিযোগকারীর শেক্সপিয়র সরণি এলাকার বাড়ি রয়েছে। ওই সম্পত্তি জবরদখল হয়ে যায়। সেটি ফিরে পাওয়ার জন্য ২০১৬ সাল থেকে বিভিন্ন জায়গায় দৌড়াদৌড়ি করছিলেন। এই সময় অভিযুক্ত অরুণাভের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ওই যুবক পরামর্শ দেয়, বাড়ি খালি করাতে কয়েকজন গুন্ডা ভাড়া করতে হবে। তার হাতে এই ধরনের লোকজন রয়েছে। এরই মাঝে মহম্মদ সালাম নামে এক ব্যক্তি ফোন করে অভিযোগকারীকে বলে, সে এই সম্পত্তি কোটি টাকায় কিনতে চায়। কীভাবে গোটা বিষয়টি করা হবে, তাও চূড়ান্ত করে ফেলে। এই পর্বে অরুণাভ ফোন করে অভিযোগকারীকে বলে, বাড়ি দখলের জন্য সালাম নামে যে গুন্ডাকে ভাড়া করা হয়েছিল, সে তিহার জেলে বন্দি ছিল। তার নামে সিবিআই, ইডিতে কেস রয়েছে। একটা কেসে ইডি তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে সালাম ইডিকে জানিয়েছে, বাড়ি দখলমুক্ত করার জন্য গড়িয়াহাটের এক ব্যক্তি তাকে নগদ অর্থ দিয়েছে। অরুণাভ অভিযোগকারীকে ভয় দেখিয়ে বলে, তাঁর নাম জড়িয়ে যাওয়ায় এজেন্সি গ্রেপ্তার করে নিতে পারে। এর হাত থেকে বাঁচতে উপায় বাতলে অভিযুক্ত জানায়, টাকা দিয়ে ইডি ও আইনজীবীকে সেটিং করবে। সেইমতো ধাপে ধাপে অভিযোগকারীর কাছে প্রায় ৯০ লক্ষ টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এরপর ভুয়ো ডিমান্ড ড্রাফট দেখিয়ে বলে টাকা ইডির কাছে জমা আছে। কিন্তু অভিযোগকারীর সন্দেহ হওয়ায় তিনি ২০২৫ সালের মার্চ মাসে অভিযোগ করেন গড়িয়াহাট থানায়। ততক্ষণে গা-ঢাকা দেয় অরুণাভ। উলটে মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করার অ্যাপ ডাউনলোড করে বারবার জেনে নিচ্ছিল তদন্তকারী অফিসারের লোকেশন। পুলিশকে ঘোল খাওয়াচ্ছিল এক বছর ধরে। তার সিডিআর ঘেঁটে পুলিশ জানতে পারে, সে মুকুন্দপুরের নয়াবাদ এলাকায় রয়েছে। এরপর সেখানে পৌঁছে রবিবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। খোঁজ চলছে বাকি অভিযুক্তদের।