Bartaman Logo
৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গাইঘাটায় পাঁচিল থেকে দেবদেবীর ছবি খুলতে দাদাগিরি ‘হিন্দুত্ববাদী’ সংগঠনের

গাইঘাটায় হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সদস্যদের চাপের মধ্যে দেবদেবীর ছবি খুলতে বাধ্য হলেন এক সরকারি আধিকারিক। আতঙ্কিত পরিবার, বিস্তারিত পড়ুন।

গাইঘাটায় পাঁচিল থেকে দেবদেবীর ছবি  খুলতে দাদাগিরি ‘হিন্দুত্ববাদী’ সংগঠনের
  • ৩ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

সংবাদদাতা, বনগাঁ: হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের পরিচয় দিয়ে বাড়ির সীমানা পাঁচিলে থাকা দেবদেবীর ছবি খুলে নিতে চাপ। অভিযোগ, সরকারি আধিকারিকের বাড়িতে একপ্রকার দাদাগিরি করে একদল যুবক-যুবতী। আধিকারিক দেওয়াল থেকে ছবি খুলে নেওয়ার কথা বললেও তাঁকে নানাভাবে হেনস্তা করা হয়। এমনকি হিন্দুত্বের পরিচয় দিতে প্যান্ট খুলে দেখাতে বলে সংগঠনের সদস্যরা। এই ঘটনায় রীতিমত আতঙ্কে ওই ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে, গাইঘাটার ঠাকুরনগর চিকনপাড়া জোড়াপুকুরে। 

Advertisement

রবিবার রাতে এলাকার বাসিন্দা নীলাঞ্জন মৈত্রের বাড়িতে আসেন কয়েকজন যুবক-যুবতী। তাঁরা নিজেদের হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সদস্য হিসাবে পরিচয় দেয়। বাড়ির পাঁচিলে থাকা দেবদেবীর ছবি খুলতে বলেন। সে কথায় রাজি হয়ে যান নীলাঞ্জনবাবু। তবে জানতে চান, তাঁরা কোন সংগঠনের এবং তাঁদের পরিচয়পত্র দেখতে চান। এতেই রেগে যান যুবক-যুবতীরা। দুপক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। 
অভিযোগ, সেই সময় এক যুবক ওই ব্যক্তিকে প্যান্ট খুলে হিন্দুত্বের পরিচয় দিতে বলে। নীলাঞ্জন মৈত্র বলেন, আমি শুধুমাত্র সংগঠনের পরিচয়পত্র দেখতে চেয়েছিলাম। এরপর আমার সঙ্গে নোংরা ভাষায় কথা বলে তাঁরা। নীলাঞ্জন মৈত্রের দাবি, থানায় গেলেও পাঁচিলে থাকা দেবদেবীর ছবি খুলে ফেলতে বলে। পরে সব ছবি খুলে নেন পরিবারের সদস্যরা। স্ত্রী স্বস্তিকা মৈত্র বিশ্বাস বলেন, তিনমাস আগেও বাড়িতে এসে পাঁচিলের ছবি খুলে ফেলার জন্য বলেছিল কয়েকজন। এদিনের ঘটনায় আমরা আতঙ্কিত। বজরং দলের সদস্য বাপ্পা মজুমদার বলেন, দেবদেবীর ছবিগুলি যেভাবে ওখানে ছিল তাতে হিন্দু ভাবাবেগে আঘাত লাগছিল। আমরা সেগুলি খুলে ফেলতে বলেছিলাম। এবিষয়ে গাইঘাটার বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর বলেন, ছবিগুলি নীচের দিকে লাগানো ছিল। ফলে নোংরা হচ্ছিল। এটা দৃষ্টিকটু। ওই পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশ্যে বিধায়ক বলেন, অযথা আতঙ্কিত হবেন না। কেউ হুমকি দিলে প্রশাসনকে জানান। প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।

সম্পর্কিত সংবাদ