Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হিন্দুস্তান ক্লাবের মণ্ডপে ‘মিনাকারি’, পুতুলনাচ তুলে ধরছে হিন্দুস্তান পার্ক

যুদ্ধ, হিংসা, হানাহানি। আজ জীবন সত্যিই আতঙ্কের। প্রতি পদে মাথায় খারাপ চিন্তা চলে আসে। চঞ্চল হয়ে ওঠে মন। ফলে জীবনের রঙিন দিনগুলোকে উদযাপন করতেই ভুলে যায় মানুষ।

হিন্দুস্তান ক্লাবের মণ্ডপে ‘মিনাকারি’, পুতুলনাচ তুলে ধরছে হিন্দুস্তান পার্ক
  • ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সায়নদীপ ঘোষ, কলকাতা: যুদ্ধ, হিংসা, হানাহানি। আজ জীবন সত্যিই আতঙ্কের। প্রতি পদে মাথায় খারাপ চিন্তা চলে আসে। চঞ্চল হয়ে ওঠে মন। ফলে জীবনের রঙিন দিনগুলোকে উদযাপন করতেই ভুলে যায় মানুষ। অনিশ্চয়তার এই যাত্রায় একদণ্ড শান্তি দেওয়ার চেষ্টা করেছে গড়িয়াহাট হিন্দুস্তান ক্লাব। ৬৩তম বর্ষে তাদের ভাবনা, ‘চেতনায় রঙিন আলপনা’। সৃজনে শিবশংকর দাস। প্রতিমা শিল্পী দীপেন মণ্ডল। পুরনো দিনের প্রাসাদের আদলে তৈরি মণ্ডপ। চারিদিকে গুজরাত, রাজস্থানের মিনাকারির কাজ। সোনালি পাতের উপর কুন্দন শিল্প, নানান রঙের খেলা। কোথাও ময়ূরের নকশা। কোথাও ফুলের মতো সুন্দর আলপনা। এভাবেই সেজে উঠেছে চারিদিক। দেখামাত্র মন ভালো হয়ে যাবে। কিছুক্ষণের জন্য হলেও জীবনের রঙিন দিনগুলি ফিরে পাবেন দর্শনার্থীরা। শোনা যায়, ষোড়শ শতাব্দীতে পারস্য থেকে এই শিল্পকলা আমাদের দেশে এনেছিল মুঘলরা। বাবর, আকবরের দরবার থেকে তা ধীরে ধীরে পৌঁছে যায় রাজস্থানের জয়পুর. আমেরের মতো শহরে। আজও মরুশহরের অন্যতম আকর্ষণ মিনাকারি। তবে এবার আর রাজস্থান নয়। গড়িয়াহাট অঞ্চলের এই পুজো মণ্ডপে গেলেই চোখে পড়বে মিনাকারির বৈচিত্র্যময় কারুকার্য।

Advertisement

লোক সংস্কৃতির অন্যতম অংশ পুতুল নাচ। কাঠ সহ বিভিন্ন বস্তু দিয়ে তৈরি পুতুলকে জীবন্ত করে তোলেন শিল্পী। এর মাধ্যমে প্রকাশ পায় লোকায়ত জীবনের বিভিন্ন দিক। বাংলাতেও নানা আঙ্গিকের পুতুল নাচ রয়েছে। তবে তার মধ্যে বেশ কিছু আজ লুপ্তপ্রায়। যার মধ্যে অন্যতম ‘চদর বদর’। এর মাধ্যমেই নিজেদের জীবনযাত্র্রার কথা তুলে ধরেন আদিবাসীরা। সাঁওতালদের এই পুতুল নাচ একসময় বীরভূম, বাঁকুড়া একাধিক জেলায় সমান জনপ্রিয় ছিল। তবে আজ গুটিকয়েক শিল্পী কাহিনি বলার এই নিজস্ব ঘরানাকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। ৯৫তম বর্ষে লোকায়ত জীবনের হারিয়ে যাওয়া এই সংস্কৃতিকে তুলে ধরেছে হিন্দুস্তান পার্ক। এবারের বিষয় ‘লোকজ’। ভাবনায় মলয় ও শুভময়। আদিবাসী গ্রামের আদলেই তৈরি হয়েছে মণ্ডপ। ভিতরে প্রবেশ করতেই এক অন্য জগত দেখতে পাবেন দর্শনার্থীরা। সেখানে মাদল, লাগড়া, বানামের শব্দে মন কেমন করে ওঠে। মণ্ডপের একটি অংশে লুপ্তপ্রায় এই পুতুল নাচ পরিবেশন করবেন শিল্পীরা। চদর বদরে হালকা কাঠ খোদাই করেই তৈরি হয় পুরুষ-নারী পুতুল। পাটাতনের উপর থাকে সেগুলি। নীচে থাকে লিভার। চাদরে ঢাকা সেই লিভারকে শিল্পী আঙুলে পেচানো সুতোর সাহায্যে জীবন্ত করে তোলেন। শিল্পীর দক্ষতায় নেচে ওঠে প্রাণহীন পুতুল। সঙ্গে সমান তালে বাজে মাদল সহ একাধিক যন্ত্র। হিন্দুস্তান পার্কে এলে এবার বাংলার এই অসামান্য শিল্পকে চাক্ষুষ করার সুযোগ মিলবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ