সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: চলছে ভরা মরশুম। কিন্তু বাজারে দেখা নেই ইলিশের। কারণ ২ জুলাই থেকে এখনও পর্যন্ত টানা দুর্যোগের কারণে সমুদ্রে স্বাভাবিকভাবে মাছ ধরতে পারছেন না মৎস্যজীবীরা। যে কারণে তাঁরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে একই পরিস্থিতি চলছে। মাঝে দু’চার দিন আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটলেও, সমুদ্র একইভাবে উত্তাল ছিল। তাই মাছ ধরতে গিয়েও বহু ট্রলারকে উপকূলে ফিরে আসতে হয়েছে। নতুন করে যাওয়ার সাহস পাচ্ছেন না অনেকেই।
এমনকি গত ২০ দিনের মধ্যে সমুদ্রের তাণ্ডবের কারণে প্রায় পাঁচটি ট্রলার দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল। কাকদ্বীপের দুটি, রায়দিঘির একটি, ফ্রেজারগঞ্জের একটি ও দিঘার একটি ট্রলার মাছ ধরতে গিয়ে ডুবে গিয়েছিল। এই দুর্ঘটনার জেরে ১০ জন মৎস্যজীবী প্রাণ হারিয়েছেন। এখনও পর্যন্ত পাঁচ জন মৎস্যজীবী নিখোঁজ রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে মৎস্যজীবীদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। দীর্ঘ দিন কেটে গেলেও আবহাওয়ার কোনো পরিবর্তন হয়নি। সমুদ্র এখনও উত্তাল হয়ে রয়েছে। তাই এই মরশুমে ইলিশ কতটা উঠবে তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে মৎস্যজীবী মহলে।
এবিষয়ে শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ গ্রাম পঞ্চায়েতের এক মৎস্যজীবী কৃষ্ণ দাস বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে সমুদ্রে স্বাভাবিকভাবে জাল ফেলে মাছ ধরার মতো পরিস্থিতি নেই। সমুদ্র উত্তাল থাকার কারণে এরকম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জাল ফেললেও সেভাবে মাছের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। নিহারি, ভোলা, লায়লা, চেলা মাছই অল্প বিস্তর পড়ছে। তবে ইলিশ মাছের সেরকম দেখাই নেই।’
কাকদ্বীপের দু’টি মৎস্যজীবী সংগঠনের সম্পাদক সতীনাথ পাত্র ও বিজন মাইতি বলেন, ‘প্রথম পর্যায়ে প্রতিটি ট্রলার ইলিশ মাছ পেয়েছিল। কিন্তু জুলাই মাসের শুরু থেকে সেভাবে আর ইলিশের দেখা নেই। দুর্যোগের কারণে সুষ্ঠুভাবে মাছ ধরা সম্ভব হচ্ছে না। তাই মৎস্যজীবীরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।’ ডায়মন্ডহারবারের এক ব্যবসায়ী জানালেন, হাতে আর এক থেকে দেড় মাস। সেপ্টেম্বরের পর থেকে সেভাবে ইলিশ উঠবে না। বাজারে চাহিদাও কমে যাবে। বর্ষার মরশুমে বাজারে ইলিশের চাহিদা থাকে সর্বোচ্চ। তখনই জোগান নেই। মৎস্যজীবীদের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন।