Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পাতে পড়বে না ভাপা-ভাজা! ইলিশপ্রেমীদের মনে কু

পাতে পড়বে না ভাপা-ভাজা! ইলিশপ্রেমীদের মনে কু
  • ১৬ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: এ বছরও কি ইলিশের আকাল? এবারও কি সর্ষে দিয়ে ভাপা-ঝাল, ভাজা বা বেগুন-বড়ি দিয়ে ঝোল প্রায় না জোটারই সম্ভাবনা? গত কয়েকবছরের মতো এই বর্ষাতেও বাঙালিকে কি হা-হুতাশ করেই কাটাতে হবে? মৎসজীবী সূত্রে জানা গিয়েছে, এই আশঙ্কা বাস্তবিকই সত্যি।
ইলিশ না পাওয়ার কারণ একটা নয়। অন্যতম কারণটি হল, এবছর কম সংখ্যক ট্রলার সমুদ্রে যাবে। মৎসজীবীদের বক্তব্য, ‘গত কয়েকবছর সেভাবে ইলিশ মেলেনি। ফলে ট্রলার নিয়ে বেরিয়ে লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছিল সবাইকে। এবছর তাই সরকারি খাতায় নথিভুক্ত ট্রলারের ৫০ শতাংশ মাত্র জলে নামবে। অর্থাৎ অর্ধেক ট্রলার যাবেই না। এর ফলে মাছ ধরা পড়বে কম। স্বাভাবিকভাবেই ইলিশও উঠবে অল্প পরিমাণ।’ জলের রুপোলি শস্য ইলিশ কম পাওয়ার আর একটি কারণ হল, বাংলাদেশ। বর্তমানে সেখানকার পরিবেশ অশান্ত। ফলে কত পরিমাণ ইলিশ এ বছর সে দেশ থেকে আসবে তা অনিশ্চিত। ফলে সবমিলিয়ে বাঙালির রসনা তৃপ্তির এ বছর সাড়ে সর্বনাশ।   
মাসখানেক বাদেই শুরু হবে ইলিশ ও অন্য সামুদ্রিক মাছ ধরার মরশুম। সম্প্রতি ট্রলার মালিকরা ঠিক করেছেন, গত কয়েক বছর ধরে যেহেতু রুপোলি শস্যের আকাল চলছে তাই কম ট্রলার নামবে। পরে যদি পরিস্থিতি ভালো হয় তখন বাকি ট্রলার নামানোর সিদ্ধান্ত হবে। যে জলযানগুলি সমুদ্রে যাবে সেগুলি এখন মেরামত করা হচ্ছে। প্রতিবছর মাছ ধরার মরশুম শুরুর আগে মৎস্যজীবী এবং ট্রলার মালিকরা বৈঠকে বসেন। কারা মাছ ধরতে যাবেন, কারা যাবেন না তা মোটামুটি সেখানেই ঠিক হয়। গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান যাচাই করে দেখা গিয়েছে, খুব কমসংখ্যক ইলিশ ধরতে পেরেছিলেন মৎস্যজীবীরা। এদিকে এই মাছ ধরার উপরই সমুদ্রযাত্রার লাভ-লোকসানের বিষয়টি অনেকটা নির্ভর করে। আশানুরূপ ইলিশ না পাওয়ার ফলে লোকসানের মুখই দেখতে হয়েছিল সবাইকে। কাকদ্বীপ মৎস্যজীবী উন্নয়ন সমিতির সম্পাদক বিজন মাইতি বলেছেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে ভালো পরিমাণ ইলিশ উঠছে না। কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করে একজন মালিক ট্রলার মেরামত করে নদীতে নামান। কিন্তু প্রতিবছর যে পরিমাণ লোকসান সহ্য করতে হচ্ছে তারপর এবছর সবাই মাছ ধরতে যেতে রাজি নন।’ অন্যদিকে, মে মাসের ১৯ তারিখ থেকে ট্রলারগুলিতে বসানো হবে অত্যাধুনিক যন্ত্র ‘টু ওয়ে এমএসএস ট্রান্সপন্ডার’। ইসরোর প্রযুক্তি এতে ব্যবহার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মৎস্যজীবীরা কোনও বিপদে পড়লে লিখিত বার্তা পাঠাতে পারবেন। এই নয়া প্রযুক্তি মৎস্যজীবীদের জন্য সহায়ক। প্রথম পর্যায়ে ৫০০টি ট্রলারে এই যন্ত্র বসানো হবে। তার মধ্যে ৩০০টি দক্ষিণ ২৪ পরগনার এবং বাকি ২০০টি পূর্ব মেদিনীপুরের।

Advertisement


 ট্রলার মেরামতি। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ