Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পশ্চিমবঙ্গের চৌকাঠে সর্বোচ্চ মাত্রার কম্পন!

শুক্রবার দুপুরে যে ভূকম্পন কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছে, তার উৎসস্থল (এপিসেন্টার) পশ্চিমবঙ্গের চৌকাঠে বললে অত্যুক্তি হয় না!

পশ্চিমবঙ্গের চৌকাঠে সর্বোচ্চ মাত্রার কম্পন!
  • ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

কৌশিক ঘোষ, কলকাতা: শুক্রবার দুপুরে যে ভূকম্পন কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছে, তার উৎসস্থল (এপিসেন্টার) পশ্চিমবঙ্গের চৌকাঠে বললে অত্যুক্তি হয় না! ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস) জানিয়েছে, বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা ও আশাশুনির মাঝে ভূমিকম্পটি সৃষ্টি হয়েছে। এই এলাকা উত্তর ২৪ পরগনার টাকির খুব কাছাকাছি। টাকিতে ইছামতী নদীর ওপারের এলাকাই দেবহাটা। রিখটার স্কেলে কম্পনের তীব্রতা ছিল ৫.৫ (আমেরিকার জিওলজিক্যাল দপ্তর অবশ্য এটি ৫.৩ মাত্রার বলেছে)। ভূমিকম্পের তীব্রতা পরিমাপের আধুনিক ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর থেকে এটাই পশ্চিমবঙ্গ বা একেবারে লাগোয়া এলাকায় সৃষ্ট তীব্রতম ভূমিকম্প।  সরকারি রেকর্ড বলছে, এর আগে ১৯৬৪ সালের ১৫ এপ্রিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগরদ্বীপে ৫.২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়েছিল। সেই ভূমিকম্পের প্রভাব বেশি পড়েছিল সুন্দরবন এবং পূর্ব মেদিনীপুরের কিছু এলাকায়।

Advertisement

গত কয়েক বছর ধরে ভূমিকম্প এ রাজ্যে খুব একটা বিরল ঘটনা নয়। কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গার মানুষ কম্পন অনুভব করেছেন সাম্প্রতিক অতীতেও। কিন্তু এসব ভূমিকম্পের এপিসেন্টার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের বাইরে। কখনও নেপাল, সিকিম, কখনও উত্তর-পূর্ব ভারত বা  বিহারের কোনো জায়গায় সৃষ্টি হয়েছে শক্তিশালী বা মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প। তার কম্পন অনুভূত হয়েছে রাজ্যে। সমগ্র হিমালয় পর্বত ভূমিকম্প প্রবণ হওয়ায় সিকিম, নেপাল, উত্তর-পূর্ব ভারতে মাঝেমধ্যে কম্পনের সৃষ্টি হয়। সম্প্রতি সিকিমে এক রাতের মধ্যে ১৫টি ভূমিকম্প হয়েছে। ১৯৩৪ সালে বিহার সংলগ্ন নেপালে যে ৮ তীব্রতার ভূমিকম্প হয়েছিল, তার ব্যাপক প্রভাব পড়েছিল কলকাতাতেও। তবে বহু যুগ পর কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার মানুষ এমন একটি ভূমিকম্পের সাক্ষী হলেন, যার এপিসেন্টার রাজ্যের একেবারে চৌকাঠে বা দোরগোড়ায়। 
রাজ্য বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা দপ্তরের রেকর্ড থেকে জানা যাচ্ছে, গত কয়েক দশকের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন ও বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় কয়েকটি মাঝারি শক্তির ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়েছিল। ১৯৭৬ সালের ২৩ শে জুন দক্ষিণ সুন্দরবনে বঙ্গোপসাগরের তলদেশে ৫ তীব্রতার একটি ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়। ১৯৮১ সালের ২৬ মার্চ পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী চিংড়াখালি-ভৈরবনগর (ক্যানিংয়ের পূর্বে) এলাকায় ৪.৯ মাত্রার একটি ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়েছিল। ১৯৮৯ সালের ১২ জুন বাংলাদেশের সুন্দরবন এলাকায় ৫.৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়। তবে পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত থেকে এগুলির দূরত্ব বেশি ছিল। ’৮৯ সালের এই কম্পনে বাংলাদেশে ভালোই ক্ষয়ক্ষতি হয়। এছাড়া, ২০০৫ সালের ২৮ নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গে সুন্দরবন উপকূল সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের তলায়, গঙ্গা ক্যানিয়ন এলাকায় ৪.৭ মাত্রার ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়। তবে এসব ভূমিকম্পে কলকাতা থেকে জেলায় বিশেষ কোনো প্রভাব বা ক্ষয়ক্ষতির রেকর্ড নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিমবঙ্গ ও লাগোয়া এলাকা যে মোটামুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের উৎসস্থল হতে পারে, তা এদিনের ঘটনায় ফের প্রমাণিত হল। এই এলাকার ভূতাত্ত্বিক গঠনও ভূমিকম্প সৃষ্টির সহায়ক বলে তাঁদের অনুমান।  নিজস্ব চিত্র। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ