নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: খারাপ বা নষ্ট আলু বীজ বিক্রি রুখতে উদ্যোগ নিল হুগলি জেলা পরিষদ। নতুন আলুর মরশুম শুরু হতে এখনও অনেকটা দেরি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময় হুগলিতে আলু বীজ নিয়ে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে কৃষকদের। আসন্ন মরশুমে কৃষকদের ক্ষতি সামাল দিতে আগেভাগে মাঠে নামল হুগলি। সম্প্রতি পরিষদের কর্তারা, জেলার আলু বীজ ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৈঠক করেন। নষ্ট বীজ বিক্রি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে সেখানে। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের তৈরি ভালো মানের বীজ কৃষকদের বিক্রি করার উপরও জোর দেওয়া হয়েছে। জেলার কৃষিকর্তাদের নজরদারি ও উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, পঞ্জাব থেকে এ রাজ্যে আসা আলু বীজে ত্রুটি থাকছে। বহু ব্যবসায়ী এই অভিযোগ করেছেন। তাঁদের দাবি, পঞ্জাবের আলু বীজ সরবরাহকারীদের সঙ্গে বীজের ত্রুটি নিয়ে কথা বলেছেন। কিন্তু সব ক্ষেত্রে সমস্যার সমাধান হয়নি। আবার অনেক ব্যবসায়ী অধিক লাভের জন্য বেশ কিছু বছরের পুরনো আলু বীজও সরবরাহ করছেন। হুগলি জেলা পরিষদের মেন্টর সুবীর মুখোপাধ্যায় বলেন, আলু চাষের নতুন মরশুমের দেরি থাকলেও আমরা বৈঠক করেছি। কারণ, রাজ্যের অন্যতম বৃহৎ আলু সরবরাহকারী জেলা হুগলি। সেখানে চাষের ত্রুটি হলে তা সার্বিকভাবে রাজ্যব্যাপী সমস্যা তৈরি করবে। আমরা জানতে পেরেছি লাইসেন্স ছাড়াই অনেকে আলু বীজ বিক্রি করছেন। আরও অনেকগুলি ত্রুটি ধরা পড়েছে। আসন্ন মরশুমে আলুর বীজকে পরীক্ষার আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি সার্বিক নজরদারি ও এ রাজ্যে তৈরি উন্নতমানের আলু বীজ ব্যবহারের উপরে জোর দেওয়া হবে। জেলা পরিষদের কৃষি-সেচ কর্মাধ্যক্ষ মদনমোহন কোলে বলেন, ভিন রাজ্যের বীজের নির্ভরতা কমাতে আমাদের রাজ্যেই উন্নতমানের বীজ তৈরি করা হচ্ছে। সেই বীজ ব্যবহারের উপরে জোর দেওয়া হয়েছে। আসন্ন মরশুমে কৃষিদপ্তর সার্বিক নজরদারি চালাবে। সেই বিষয়ে একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। জেলার আলু বীজ ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধি স্বপন সামন্ত বলেন, পাঞ্জাবের আলু বীজ নিয়ে আমরা আগেই সরবরাহকারীদের অভিযোগ করেছি। জেলার আলু চাষ ও কৃষকদের সুরক্ষায় আমরা প্রশাসনের পাশে থাকব।
কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতি মরশুমে জেলায় প্রায় ৬৫ লক্ষ ইউনিট আলু বীজের প্রয়োজন হয়। জেলায় কিছু পরিমাণ বীজ তৈরি হয়। কৃষকরা নিজেদের সামান্য কিছু জমিতে বীজ তৈরি করেন। আর ২৪ লক্ষ ইউনিট ভিন রাজ্য থেকে আনতে হয়। সেই আলু বীজ থেকে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এই বিষয়টি সামাল দেওয়ার পরিকল্পনা হয়েছে। একইসঙ্গে আলু বীজ নিয়ে কালোবাজারি রুখতেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত।