নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জঙ্গল ও নর্দমা পরিষ্কারের জন্য খরচ হয়েছে প্রায় ৭৩ লক্ষ টাকা! সেই টাকা গিয়েছে পুরসভার এক ক্লার্কের অ্যাকাউন্টে। টাকি পুরসভার আর্থিক দুর্নীতি নিয়ে দায়ের হওয়া মামলায় উঠে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য। এছাড়াও রয়েছে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ। যার প্রেক্ষিতে এবার হলফনামা তলব করেছে হাইকোর্ট। আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সদ্য ইস্তফা দেওয়া তৃণমূল কাউন্সিলার প্রদ্যুৎ দাস। ওই মামলায় হলফনামা তলব করেছে হাইকোর্ট। মামলায় পক্ষভুক্ত টাকি পুরসভার চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে পুর প্রশাসন অর্থাৎ এগজিকিউটিভ অফিসার এবং পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরকে (ডিএলভি) আলাদা করে হলফনামা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। শুধু তাই নয়, বিষয়টি খতিয়ে দেখে নগরোন্নয়ন দপ্তরকে যথাযথ পদক্ষেপ করতে হবে বলেও নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ। পুরসভার অধীনে জঙ্গল ও নর্দমা পরিষ্কারের জন্য ৭২ লক্ষ ৭২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে বলে অভিযোগ। শুনানিতে রীতিমতো বিস্ময় প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি। শুধু মাত্র জঙ্গল ও নর্দমা পরিষ্কারের জন্য এত টাকা! একই সঙ্গে, উম-পুনের ত্রাণ তহবিলের প্রায় ৪৭ লক্ষ টাকা দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ। এই টাকা টাকি পুরসভার প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যানের অ্যাকাউন্ট ও ‘ফ্রেইন্ড কনস্ট্রাকশন’-এর অ্যাকাউন্টে কী করে ঢুকল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে হাইকোর্ট। টাকি পুরসভার একাধিক টেন্ডার দুর্নীতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। কোনো প্রশ্নের জবাব দিতে পারেননি টাকি পুরসভার আইনজীবী! পরবর্তীতে মামলায় পক্ষভুক্ত সবার কাছে পৃথক হলফনামা চেয়েছে আদালত। অন্যথায়, সশরীরে হাজির হয়ে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



