ফৌজদারি মামলায় জড়িত সরকারি  কর্মীকে অনির্দিষ্ট সময় বরখাস্ত নয়, মন্তব্য হাইকোর্টের
  • ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি কলকাতা: ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত হলেও, কোনো সরকারি বা সরকার পোষিত সংস্থার কর্মীকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বরখাস্ত করে রাখা যায় না। সম্প্রতি এক মামলার রায়ে এমনটাই জানিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। 

Advertisement

সিধো কানহো বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সুমন পাল ২০২৫ সালের জুন মাসে একটি ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত ছিলেন। যে কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ৪৮ ঘন্টার বেশি সময় তাঁকে পুলিশি হেপাজতে থাকতে হয়। পরবর্তীতে অবশ্য তিনি ছাড়া পান। কিন্তু ওই ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত হওয়ার কারণে তাঁকে বরখাস্ত করে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ২০২৫ সালের ১৩ জুন বরখাস্তের নির্দেশ জারি করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার।
এরপর প্রায় এক বছর কেটে গেলেও ওই ফৌজদারি মামলায় কোনো চার্জশিট জমা দেয়নি পুলিশ। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে কোন বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশও দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এই অবস্থায় সুমন বাবুর বিরুদ্ধে জারি হওয়া বরখাস্তের নির্দেশও প্রত্যাহার করা হয়নি। যে কারণে তিনি ওই বরখাস্তে নির্দেশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে কাজে যোগদান করতে চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষকে চিঠি লেখেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের তরফে সেই চিঠির কোন উত্তর আসেনি। এরপরই তিনি বাধ্য হয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে সমস্ত বৃত্তান্ত তুলে ধরেন সুমনবাবুর আইনজীবী সুশান্ত পাল। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়, মামলাকারীর আবেদন উচ্চশিক্ষা দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। উচ্চশিক্ষা দপ্তর থেকে এ ব্যাপারে কোন উত্তর না আসায়, মামলাকারীর বরখাস্ত প্রত্যাহার সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্তে আসা যায়নি। যদিও রাজ্যের তরফে জানানো হয় বিষয়টি উচ্চশিক্ষা দপ্তরের বিবেচনাধীন নয়। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তাই এ ব্যাপারে তারাই সিদ্ধান্ত নিতে পারে। 
সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি সিনহা নির্দেশে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল মামলাকারীকে বরখাস্তের নির্দেশ দিয়েছিল। এক্ষেত্রে ওই নির্দেশ প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষা দপ্তরের কোন অনুমোদন প্রয়োজন রয়েছে, এরকম কোনো নিয়ম দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ফলে মামলাকারীর বরখাস্তের প্রত্যাহারের বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিচারপতি নির্দেশে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অনির্দিষ্টকালের জন্য কোন কর্মীকে এভাবে বরখাস্ত করে রাখা যায় না। এরপরই মামলাকারীকে বরখাস্তের নির্দেশ প্রত্যাহারের বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আট সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি সিনহা।