নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সোনারপুরে শুল্ক আধিকারিককে মারধরের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। শুক্রবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের পর্যবেক্ষণ, ওই শুল্ক আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার সময় পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও আইনই মানা হয়নি। হাইকোর্টের নির্দেশ, ২০ নভেম্বর পর্যন্ত শুল্ক আধিকারিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআরের ভিত্তিতে কোনও কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারবে না পুলিশ।
এদিন এই বিষয়ে শুনানির সময় বিচারপতি সরকারি আইনজীবীকে প্রশ্ন করেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এফআইআর দায়ের করে দিলেন? সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রাথমিক অনুসন্ধান হয়েছিল কি?’ ৩৫(৩) ধারায় আধিকারিককে নোটিস পাঠানো হয়েছিল কি না, সে প্রশ্নও তোলেন বিচারপতি। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি সরকারি আইনজীবী।
জানা গিয়েছে, গত মাসে গাড়িতে ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে সোনারপুরে ওই শুল্ক আধিকারিকের সঙ্গে কয়েকজন অটোচালকের বচসা বাধে। পরে বিষয়টি মিটে যায়। তবে অভিযোগ, ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যে প্রায় জনা ষাটেক দুষ্কৃতী আধিকারিকের আবাসনের বাইরে জড়ো হয়ে হামলা চালায়। দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে তাণ্ডব করে। মারধরের ফলে গুরুতর আহত হন আধিকারিক। তাঁর মাথা ফেটে যায়। হেনস্তার শিকার আধিকারিকের স্ত্রীও। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় কল্যাণী এইমসে ভর্তি করা হয়। এরপর ঘটনার তদন্তে নামে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অটো চালক আজাদ আলি মণ্ডল, সুরজ আলি মণ্ডল ও অলোক মণ্ডলকে গ্রেফতার করে। পরে আরও আটজনকে ধরে। তবে তাঁদের সকলেই আদালত থেকে জামিন পেয়ে যান। এই পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে আদালতে।