Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিমার ৭০ লক্ষ নিয়ে বিবাদ, সিটকে তদন্তভার নিতে নির্দেশ হাইকোর্টের

বিমার ৭০ লক্ষ টাকার দাবি নিয়ে বিবাদ। মামলাটি ছিল বনগাঁর গোপালনগর থানার হাতে। সেই মামলার তদন্তভার শেষমেশ সিটের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য বনগাঁ পুলিস জেলার সুপারকে নির্দেশ দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ।

বিমার ৭০ লক্ষ নিয়ে বিবাদ, সিটকে তদন্তভার নিতে নির্দেশ হাইকোর্টের
  • ৮ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিমার ৭০ লক্ষ টাকার দাবি নিয়ে বিবাদ। মামলাটি ছিল বনগাঁর গোপালনগর থানার হাতে। সেই মামলার তদন্তভার শেষমেশ সিটের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য বনগাঁ পুলিস জেলার সুপারকে নির্দেশ দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। এক সূত্র জানাচ্ছে, বনগাঁ পুলিস জেলার ডিএসপি (ট্রাফিক), ট্রাফিক ইনসপেক্টর, ওসি লিগ্যাল ও বাগদা ট্রাফিক গার্ডের ওসিকে নিয়ে সিট গঠন করা হয়েছে।

Advertisement

২০২২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাত দেড়টার ঘটনা। চাকদহ-বনগাঁ রোডে চালকি পেট্রল পাম্পের কাছে বাইক দুর্ঘটনায় পড়েন বনগাঁ আদালতের সরকারি আইনজীবী মণিশঙ্কর বিশ্বাস। তাঁর স্ত্রী চন্দনা বিশ্বাসের অভিযোগ, ওই রাতে একটি মারুতি অল্টো পিছন থেকে ধাক্কা মারে বাইকে। ফলে রাস্তায় ছিটকে পড়েন তাঁর স্বামী। বনগাঁ হাসপাতাল, পরে আরও কয়েকটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। শেষমেশ সাতদিনের মাথায় ৪ মার্চ মারা যান মণিশঙ্করবাবু।
ঘাতক গাড়ির বিমা সংস্থার বিরুদ্ধে ৭০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করেন আইনজীবীর স্ত্রী চন্দনা বিশ্বাস। যা নিয়ে বিমা সংস্থার সঙ্গে বিরোধ হয় তাঁর। এই ঘটনায় পুলিসের পাশাপাশি আলাদাভাবে তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট বিমা সংস্থা। তাদের তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। তাতে ঘটনাস্থল সংলগ্ন পার্কিং লটের নিরাপত্তারক্ষী বয়ান উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘কোনও অল্টো গাড়ি দুর্ঘটনা ঘটায়নি। মুরগি বোঝাই একটি গাড়ি ধাক্কা মেরেছিল আইনজীবীর বাইককে। ঘটনার পর গাড়িটি পালিয়ে যায়। তার নম্বর পাওয়া যায়নি।’ বিমা সংস্থার দাবি, বিমার টাকা আদায় করতেই ঘটনাস্থলের ত্রিসীমানায় না থাকা অল্টো গাড়ির উপস্থিতি দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি সাক্ষী হিসেবে এমন দু’-তিনজনের নাম দেওয়া হয়েছে, যাঁরা কি না, সেই রাতে ঘটনাস্থলের ধারেপাশে ছিলেন না। বিমা সংস্থাকে তাঁরা নিজেরাই এই বয়ান দিয়েছেন। ঘাতক গাড়ি হিসেবে যে অল্টোর (কাগজে-কলমে নাম ট্রান্সফার হয়নি) কথা বলা হয়েছে, তার বর্তমান মালিক নারায়ণ পালের নাম বিমাপত্রে ‘নমিনি’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। তা দেখেই সন্দেহ হয় বিমা সংস্থার। কারণ, ২০২১-’২২ সালে বাদুড়িয়া, স্বরূপনগর, বসিরহাট, রানাঘাট— মোট চারটি পথ দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে চালক নারায়ণ পালকেই অভিযুক্ত হিসেবে দেখানো হয়েছে। যা সন্দেহজনক। ওই চারটি মামলাতেই তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করেছে পুলিস। এনিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে বনগাঁ পুলিস জেলার এসপি দীনেশ কুমারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই মামলার তদন্তভার সিটের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ