নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গাড়ি রাখাকে কেন্দ্র করে ঝামেলার প্রাক্তন বিচারপতির ছেলেকে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ পুলিসের বিরুদ্ধে! বুধবার রাতের ঘটনায় বৃহস্পতিবারই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন প্রাক্তন বিচারপতি রণেন্দ্রনারায়ণ রায়ের পুত্র মনুজেন্দ্রনারায়ণ রায়। তিনি নিজেও হাইকোর্টে কর্মরত আইনজীবী। এই ঘটনায় আপাতত অভিযুক্ত পুলিস আধিকারিক তুষারকুমার চন্দ্রকে কাজ দেওয়া যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। সেইসঙ্গে ওই এলাকার সমস্ত সিসি ক্যামেরা ফুটেজ সংরক্ষণেরও নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
বুধবার রাতে ঘটনাটি ঘটে সল্টলেকে আইনজীবীর বাসস্থান সংলগ্ন এলাকায়। তাঁর বাড়ির সামনে একাধিক গাড়ি পার্কিং থাকায় পিছনের একটি গলিতে গাড়ি রেখেছিলেন মনুজেন্দ্রনারায়ণ। রাতে জায়গা খালি হলে মনুজেন্দ্রনারায়ণ রায়ের পুত্র সৌরীন্দ্রনারায়ণ রায় সেই গাড়ি বাড়ির সামনে আনতে যান। অভিযোগ, সেই সময় সাদা পোশাকের দু’জন পুলিস কর্মী হঠাৎই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। অভিযোগ, তারপরই তাঁর উপর চড়াও হয়ে মারধর শুরু করেন ওই দুই পুলিস কর্মী। এই ঘটনার কথা সৌরীন্দ্র কোনওরকমে তাঁর বাবাকে জানান। এরপর মনুজেন্দ্র ঘটনাস্থলে ছুটে যান। অভিযোগ, সেইসময় অভিযুক্ত দুই পুলিস কর্মী মনুজেন্দ্রকেও মারধর করেন। পরিবারের দাবি, পুলিসের মারের চোটে মনুজেন্দ্রর ঘাড়ের হাড় পর্যন্ত ভেঙে গিয়েছে! রাতেই একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয়েছে বলে খবর। ওই আইনজীবীর দাদা নীলেন্দ্রনারায়ণ রায় জানান, গাড়ি আনতে গেলে সেসময় সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা দুই সাদা পোশাকের পুলিস কর্মী সৌরীন্দ্রর পরিচয়সহ নানা বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকেন। এরপরেই চলে মারধর! অন্যদিকে, পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মারধরে এক পুলিসকর্মীও আক্রান্ত হয়েছেন।
এই ঘটনার পর, এদিন সকালে বিচারপতি ঘোষের বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আইনজীবী অনিন্দ্য লাহিড়ী। বিকেলে মামলার শুনানির পর বিচারপতি ঘোষের নির্দেশ, বিধাননগরের ডিসিপিকে ওই এলাকার যাবতীয় সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি হাইকোর্ট নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত এএসআই কাজে যোগ দিতে পারবেন না। বিষয়টি নিশ্চিত করবেন বিধাননগরের পুলিস কমিশনার। এছাড়া মামলাকারীকে সশরীরে থানায় গিয়ে এফআইআর রুজু করারও নির্দেশ দিয়েছে বিচারপতি ঘোষ। সোমবার ফের এই মামলার শুনানি। অন্যদিকে, এই ঘটনার প্রতিবাদে আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে হাইকোর্টে কোনও মামলায় যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাইকোর্টের আইনজীবীদের সংগঠন বার অ্যাসোসিয়েশন।