প্রয়াগরাজ: দুর্নীতি পৌঁছে গিয়েছে ভগবান রামের মন্দিরেও। চুরি গিয়েছে অযোধ্যার রামলালাকে দানের কোটি কোটি টাকা। এই ইস্যুতে গোটা দেশ উত্তাল। এই আবহে দুর্নীতি নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিলেন এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি অতুল শ্রীধরণ। তাঁর মতে, চাঁদা চুরির কথা জেনেও অনেকে চুপ করে বসে রয়েছেন। এর থেকে লজ্জাজনক আর কিছুই হতে পারে না! তাঁর পরামর্শ, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন সংশোধন করে দুর্নীতিগ্রস্তদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হোক। এখানেই থামেননি তিনি। বিচারপতির সংযোজন, সততা কোন তলানিতে পৌঁছে গিয়েছে, তার উদাহরণ রামমন্দিরে চাঁদা চুরি। তাঁর মতে, সাধারণ ভারতবাসীদের কাছে দুর্নীতি অনেকটা গা-সওয়া হয়ে গিয়েছে। ধরা না পড়া পর্যন্ত দুর্নীতি মানুষের মনে কোনো প্রভাবই ফেলে না। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল ২০২৫’এর রিপোর্ট অনুযায়ী, স্বচ্ছ্বতার নিরিখে ১৮২টি দেশের মধ্যে ভারতের স্থান ৯১। এই তথ্যেও আমরা লজ্জিত নই। এই পরিস্থিতি বদলে দুর্নীতি বিরোধী আইনের সংশোধনও চেয়েছেন বিচারপতি শ্রীধরণ। তাঁর মতে, বেনিয়ম সমাজের গভীরে ঢুকে গিয়েছে। তাই দুর্নীতি বিরোধী আইন ১৯৮৮’র সংশোধন জরুরি। নয়া বিধিতে দোষীদের মৃত্যুদণ্ডের ব্যবস্থা করা হোক। উত্তরপ্রদেশ সরকারের বুলডোজার নীতিরও কড়া সমালোচনা করেছেন বিচারপতি শ্রীধরণ। এই নিয়ে হাইকোর্টে মামলা ছিল। ৫১ পাতার পর্যবেক্ষণে বিচারপতি জানিয়েছেন, রক্তলোলুপ সমাজকে তৃপ্ত করতে অপরাধের পরই অভিযুক্তের বাড়ি-ঘর ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। তা দেখে মনে হচ্ছে, আদালত কোনো বিধি নিষেধই জারি করেনি। কিংবা রাজ্য মনে করছে, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশকে অমান্য করলেও কোনো কঠোর পদক্ষেপের মুখে পড়তে হবে না। বেআইনি নির্মাণগুলি কীভাবে তৈরি হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। বিচারপতি জানান, বেআইনি নির্মাণ ঠেকানোর দায়িত্ব প্রশাসনের। কিন্তু, রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক মদতে তৈরি হওয়ায় কিংবা ঘুষ পেয়ে চোখ বুজে থাকেন সরকারি দপ্তরের আধিকারিকরা।



