নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সন্তান শোক ভোলা যায় না! সদ্য সাবালক হওয়া একমাত্র ছেলের মৃত্যু যেমন ভুলতে পারছেন না সরকার দম্পতি। উপায় থাকলেও ফের একবার সন্তান লাভে বাধ সাধছে আইন। তাই বাধ্য হয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁরা।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সন্তান শোক ভোলা যায় না! সদ্য সাবালক হওয়া একমাত্র ছেলের মৃত্যু যেমন ভুলতে পারছেন না সরকার দম্পতি। উপায় থাকলেও ফের একবার সন্তান লাভে বাধ সাধছে আইন। তাই বাধ্য হয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁরা।
১৮ বছর বয়সি একমাত্র ছেলের মৃত্যুর পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটির বাসিন্দা অসীম সরকার ও শর্মিষ্ঠা সরকার। অবশেষে তাঁরা ‘অ্যাসিস্টেড রিপ্রোডাক্টিভ টেকনোলজি’ (এআরটি)-এর মাধ্যমে ইনভিট্রো ফার্টিলাইজেশন পদ্ধতিতে সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই মতো একটি নার্সিংহোমের সঙ্গে তাঁরা যোগাযোগও করেছিলেন। কিন্তু এআরটি প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাঁদের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ায় আইন। এআরটি আইন অনুযায়ী, সন্তান ধারণের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়ার ক্ষেত্রে মহিলাদের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৫০ বছর। পুরুষের ক্ষেত্রে তা ৫৫ বছর। এক্ষেত্রে দেখা যায়, শর্মিষ্ঠাদেবীর বয়স ৫০ না পেরলেও অসীমবাবু ৫৫ পেরিয়েছেন বহুদিন। বর্তমানে তাঁর বয়স ৬০। তাই এই পরিস্থিতিতে তাঁরা সন্তান লাভের জন্য কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।
বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে ছিল মামলার শুনানি। সেখানে যাবতীয় বৃত্তান্ত তুলে ধরেন সরকার দম্পতির আইনজীবী। বিষয়টি শোনার পর বিচারপতি সিনহা জানিয়ে দেন, বয়সের বাধা থাকলেও মামলাকারী দম্পতিকে এআরটি প্রযুক্তি ব্যবহারের ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে। নির্দেশ অনুযায়ী নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দিয়েছেন বিচারপতি সিনহা।