নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: হুগলিতে প্রথম ব্রেইল লাইব্রেরি তৈরির উদ্যোগ নিল জেলা পরিষদ। দৃষ্টিহীনদের পড়াশোনার জন্য বিশেষভাবে তৈরি ব্রেইল অক্ষরবিশিষ্ট বইয়ের সম্ভার গড়ার জন্য নির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই পরিকল্পনা রূপায়ণের জন্য প্রাথমিক পর্বের কাজ শেষ। হুগলির উত্তরপাড়ায় দৃষ্টিহীনদের জন্য একটি সরকারি স্কুল আছে। সেখানে ওই লাইব্রেরি তৈরি হবে। উত্তরপাড়ার মাখলার ওই স্কুলটির পরিকাঠামো এর ফলে বৃদ্ধি পাবে। চলতি বছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় ওই বিদ্যালয়ের চার ছাত্র ও চার ছাত্রী অংশ নিয়েছিল। সম্প্রতি জেলা পরিষদের ২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষের বাজেট বৈঠকে ওই প্রকল্পটির বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা ও গৃহীত হয়।
Advertisement
হুগলি জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ সুবীর মুখোপাধ্যায় বলেন, মাখলার লুইব্রেইল স্কুলটি জন শিক্ষাদপ্তরের অধীনে আছে। ফলে একটি প্রাথমিক পরিকাঠামো আছেই। আমরা সেটি ব্যবহার করে জেলার প্রথম ব্রেইল লাইব্রেরি তৈরির পরিকল্পনা করেছি। লাইব্রেরির বই বিশেষভাবে তৈরি করাতে হয়। ফলে আমরা একাধিক সংস্থার সঙ্গে কথা বলছি। অর্থের কোনও অভাব হবে না। জেলার দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থীদের জন্য একটি উন্নত পরিকাঠামো তৈরি করে দেব। জেলার বাইরের শিক্ষার্থী এবং ব্রেইল ব্যবহার করতে পারেন এমন সব মানুষকে আমরা লাইব্রেরি ব্যবহার করতে দেব। পরিকল্পনা রূপায়ণের কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। দৃষ্টিহীনদের নিয়ে কাজ করেন চন্দননগর পুলিস কমিশনাটের কর্মী সুকুমার উপাধ্যায়। তিনি বলেন, খুবই ভালো উদ্যোগ। কারণ দৃষ্টিহীনদের পড়ার জগত খুবই ছোট। জেলা পরিষদের উদ্যোগ সেই জগতকে প্রসারিত করবে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সুবিধা পাবেন অন্য দৃষ্টিহীনরাও। পরিষদের উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন সমাজকর্মী গৌতম সরকারও। তিনি বলেন, একটি বিশেষ শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার মানুষদের নানা মানসিক সমস্যা হয়। পড়াশোনা বা বইয়ের ভুবন তাঁদের সেই মানসিক সমস্যার পরিসর থেকে মুক্তি দেবে। সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি বৃহত্তর ভাবনা জেলা পরিষদ ভেবেছে। তা সাধুবাদের যোগ্য। এ নিয়ে জেলা পরিষদের সভাধিপতি রঞ্জন ধাড়া বলেন, আমরা সকলের জন্য সমান উন্নয়নের ভাবনাকে সঙ্গী করে পরিষদের কাজ চালাই। সেই নিরিখেই ওই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জেলা পরিষদের শিক্ষাবিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্রেইল লাইব্রেরিতে পাঠ্যপুস্তকের বিরাট সম্ভারের পাশাপাশি শিক্ষামূলক বই এবং বাংলা ও ইংরেজি সাহিত্যের বই রাখা হবে। বিশেষ একটি বিভাগ করে সেখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত হওয়ার উপযোগী বইও রাখা হবে। যেহেতু পরিকাঠামো গড়ার প্রয়োজন হচ্ছে না তাই বরাদ্দের সমস্ত অর্থই বই কেনার জন্য ব্যয় করা হবে।
জেলা পরিষদের শিক্ষাবিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্রেইল লাইব্রেরিতে পাঠ্যপুস্তকের বিরাট সম্ভারের পাশাপাশি শিক্ষামূলক বই এবং বাংলা ও ইংরেজি সাহিত্যের বই রাখা হবে। বিশেষ একটি বিভাগ করে সেখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত হওয়ার উপযোগী বইও রাখা হবে। যেহেতু পরিকাঠামো গড়ার প্রয়োজন হচ্ছে না তাই বরাদ্দের সমস্ত অর্থই বই কেনার জন্য ব্যয় করা হবে।



