


জোহানেসবার্গ: আবেগ, উন্মাদনায় টেস্ট বিশ্বজয়ীদের বরণ করল দক্ষিণ আফ্রিকা। বিমান বন্দর চত্বরে হাজির ছিলেন অজস্র ক্রিকেটপ্রেমী। ক্যাপ্টেন তেম্বা বাভুমা হাতে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জেতার পুরস্কার হিসেবে পাওয়া মেস (গদা) হাতে বেরিয়ে আসেন সবার আগে। তাঁকে দেখে উল্লসিত হয়ে ওঠে জনতা। শুরু হয় গান। পতাকা নাড়াতে থাকেন নানা বয়সের ক্রিকেটপ্রেমীরা। এমন মুহূর্ত তাঁদের জীবনে আগে আসেনি যে!
বাভুমার সঙ্গেই দেখা যায় কোচ শুকরি কনরাডকে। একের পর এক বেরিয়ে আসেন দলের অন্য সদস্যরা। সকলেই পরেছিলেন চ্যাম্পিয়ন্স লেখা সাদা টি-শার্ট। প্রত্যেক ক্রিকেটারের হাতে দেখা যায় ফুলের তোড়া। কোনও কোনও পরিচিতকে দেখতে পেয়ে জড়িয়ে ধরেন ক্রিকেটাররা। দেদার অটোগ্রাফও দেন তাঁরা। একসঙ্গে সকলে দাঁড়ানোর পর হয় ফটোসেশন। বাভুমা বলেন, ‘অভিভূত। বিমানবন্দরে এত মানুষকে আমাদের জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে কখনও দেখিনি। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মুহূর্তেও উপলব্ধি করিনি যে ঠিক কী করেছি। ক্রমশ দেশবাসীর আবেগ টের পাচ্ছি। বুঝতে পারছি এই জয়ের তাৎপর্য। সকলের মুখে হাসি ফোটাতে পেরে আমরা গর্বিত। এখন ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই আমাদের চ্যালেঞ্জ।’
শনিবার ডব্লুটিসি ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে পাঁচ উইকেটে হারায় বাভুমা বাহিনী। ২৭ বছর পর প্রোটিয়ারা জেতে আইসিসি ট্রফি। ১৯৯৮ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের পর চোকার্স তকমা সেঁটে গিয়েছিল তাদের জার্সিতে। সেটাও এই জয়ের সঙ্গে সঙ্গে উপড়ে ফেলে দক্ষিণ আফ্রিকা। টেস্টে বিশ্বসেরা দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম চ্যালেঞ্জ জিম্বাবোয়ে। ২৮ জুন বুলাওয়োতে দুই টেস্টের সিরিজের প্রথম ম্যাচে নামবে তারা। সেই ম্যাচে বাভুমাই নেতৃত্ব দেবেন দলকে। তবে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে জয়ের প্রধান কারিগর আইডেন মার্করামকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। বল হাতে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা কাগিসো রাবাডাও বিশ্রামে। এই সিরিজের জন্য পাঁচজন আনক্যাপড ক্রিকেটারকে ডাকা হয়েছে স্কোয়াডে। এরপর হারারেতে জিম্বাবোয়ে ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে সাত ম্যাচের টি-২০ প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে দক্ষিণ আফ্রিকা।
তবে আপাতত অজিদের হারানোর তৃপ্তিই তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করছেন বাভুমারা। ফাইনালে যেভাবে স্লেজিংয়ে‘চোকার’ শব্দটা ব্যবহার করছিল প্যাট কামিন্সের দল, তা এদিনও মিডিয়ার সামনে তুলে ধরেন প্রোটিয়া ক্যাপ্টেন।