Bartaman Logo
৭ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ঐতিহ্যবাহী সরকারি স্কুলগুলির বেহাল দশা, অবস্থা পরিবর্তনের দাবি শিক্ষকদের

পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী সরকারি স্কুলগুলির অবস্থা সংকটজনক। শিক্ষকদের দাবি, দ্রুত পরিবর্তন না হলে শিক্ষা ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হবে। বিস্তারিত পড়ুন।

ঐতিহ্যবাহী সরকারি স্কুলগুলির বেহাল দশা, অবস্থা পরিবর্তনের দাবি শিক্ষকদের
  • ৭ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পিএমশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের স্কুলগুলিকে মডেল স্কুলে রূপান্তরের কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই প্রাচীন, ঐতিহ্যবাহী ৩৯টি সরকারি স্কুলের হাল ফেরানোর দাবিও জোরদার হয়েছে। শতাব্দীপ্রাচীন স্কুলগুলি রীতিমতো ধুঁকছে শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীর অভাবে। ২০১৪ সালের পর ওই স্কুলগুলিতে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে কোনও শিক্ষকই নিয়োগ হয়নি। ফলে অনুমোদিত পদগুলির প্রায় অর্ধেকই ফাঁকা। সংখ্যাটা এক হাজারেরও বেশি বলে দাবি।

Advertisement

পশ্চিমবঙ্গ সরকারি বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৌগত বসু বলেন, ‘স্কুলগুলিতে গড়ে ৫০ জন শিক্ষক প্রয়োজন। কোনো কোনো স্কুলে তিনটি সেকশন চলে। সেখানে শিক্ষকের চাহিদা আরও বেশি। ফলে কম করে দু’হাজার থেকে দু’হাজার ২০০ পর্যন্ত মোট শিক্ষক পদ রয়েছে ধরে নেওয়া যায়। তবে শিক্ষক রয়েছেন এর অর্ধেক। দীর্ঘদিন নিয়োগ না হওয়াই এর কারণ। একই অবস্থা প্রধান শিক্ষক পদের ক্ষেত্রেও। ১২-১৩টি স্কুলে প্রধান শিক্ষক আছেন। লাইব্রেরিয়ান আছেন হাতেগোনা কিছু স্কুলে। তবে সবথেকে বেশি সমস্যা শিক্ষাকর্মীর ক্ষেত্রে। গ্রুপ ডি কর্মীর পদ ৮০ থেকে ৯০ শতাংশই ফাঁকা। এর ফলে স্কুলগুলির দৈনন্দিন কাজকর্ম চালানো কার্যত দায় হয়ে উঠেছে।’
এছাড়া শিক্ষক নিয়ে অন্য সমস্যাও আছে। সমিতির সঙ্গে রাজ্য সরকারের এ সংক্রান্ত একটি মামলা চলছে। রাজ্য সরকার একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল, ৩৯টি স্কুল তো বটেই এর সঙ্গে যাবতীয় নিউ ইন্টিগ্রেটেড মডেল স্কুল (এনআইজিএস) বা অন্যান্য মডেল স্কুলের শিক্ষকরা সমগোত্রীয় বলে গণ্য হবেন। এটাকেই চ্যালেঞ্জ করে মামলা করে সমিতি। তাদের বক্তব্য ছিল, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথপ্রকল্পে পিছিয়ে থাকা অঞ্চলে স্কুলশিক্ষা উন্নত করার জন্য এই স্কুলগুলি তৈরি করা হয়। পিএসসি’র মাধ্যমে নিয়োগ হলেও বা এরা ওয়েস্টবেঙ্গল সাব অর্ডিনেট এডুকেশন সার্ভিসের ক্যাডার হলেও নতুন ধরনের স্কুলগুলির ক্ষেত্রে ডিডিও’র দায়িত্বে থাকেন ডিআই। আর প্রাচীন স্কুলগুলির ক্ষেত্রে এই দায়িত্ব প্রধানশিক্ষকদের। এছাড়াও বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। সবচেয়ে বড়ো কথা, এঁদের মান নিয়েও সংশয় রয়েছে শিক্ষকদের মধ্যে। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, ২০১৭-’১৮ সালে এ ধরনের স্কুলগুলিতে ৮৮৮ জন শিক্ষক একলপ্তে নিয়োগ করা হয়েছিল। সে নিয়োগ কতটা স্বচ্ছ ছিল সে প্রশ্ন থেকেই যায়। সেখানে পুরনো স্কুলগুলিতে নিয়োগ হয় গুটিকয়েক শিক্ষক। প্রতিযোগিতাও থাকে চরমে। তাই কোনওভাবেই দু’ধরনের শিক্ষকের মান এক হতে পারে না।
সমিতি নয়া শিক্ষামন্ত্রী নিয়োগের অপেক্ষায় আছে। মন্ত্রী দায়িত্ব নিলেই সরকারি স্কুলগুলিকে সেন্টার অব এক্সেলেন্সের দাবিতে দ্বারস্থ হবে সমিতি। সেক্ষেত্রে স্কুলগুলিতে পাশ-ফেল ফিরিয়ে আনা, পরীক্ষার মাধ্যমে ছাত্রভর্তির বিষয়ে ছাড় দাবি করা হবে। তাহলেই স্কুলগুলির হাল ফিরবে বলে তাদের মত।

সম্পর্কিত সংবাদ