Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

এখনও জমা জলে নরক যন্ত্রণা হাওড়ায়

এখনও জমা জলে নরক যন্ত্রণা হাওড়ায়
  • ৯ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: মাইক্রো টানেল বসিয়ে উত্তর হাওড়ার তিনটি ওয়ার্ডে জমা জলের সমস্যা সোমবারের মধ্যে মেটানোর আশ্বাস দিয়েছিল হাওড়া পুরসভা। দ্রুত কাজ হবে বলে জানিয়েছিল কেএমডিএ। কিন্তু মঙ্গলবার জানা গেল, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে কাজ এখনও বিশ বাঁও জলে। 

Advertisement

এখন টানেল তৈরির পাইপলাইন পড়ে আছে রাস্তার পাশে। অন্যদিকে বেলগাছিয়ার সি রোডের একাধিক এলাকায় জমা জলের পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। দুর্গন্ধযুক্ত নোংরা জল সর্বত্র। ভাসছে মল-মূত্র। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিওসি রোড সংযোগকারী ড্রেন সাফ করতে উদ্যোগ নিয়েছে পুরসভা। ক্রমাগত যন্ত্রণা সইতে সইতে ধৈর্যচ্যুতি ঘটেছে পুর নাগরিকদের। ফলে রাস্তা অবরোধ, দফায় দফায় বিক্ষোভ হয়েছে। প্রশাসন হাজার প্রতিশ্রুতি দিলেও সমাধান অধরা। বেলগাছিয়া ভাগাড়ে ভূমিধসের ঘটনার প্রায় কুড়ি দিন পরও উত্তর হাওড়ার তিনটি ওয়ার্ডের নিকাশি সমস্যার এতটুকুও সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ। 
তবে বি রোডের বেশ কিছু এলাকায় জমা জল সরানো গিয়েছে। কিন্তু দুর্বিষহ অবস্থা সি রোডে’র। নিকাশির কালো নোংরা জলে ডুবে রয়েছে রাস্তাঘাট, বসত বাড়ি। জলে ভাসছে মল-মূত্র। নরকযন্ত্রণা সয়ে দিন কাটাচ্ছে সি রোড বাজার, বালক সঙ্ঘ লাগোয়া এলাকা। অটো স্ট্যান্ড সংলগ্ন অঞ্চলের কয়েক হাজার বাসিন্দা। হাওড়া পুরসভা ও কেএমডিএ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সোমবারের মধ্যে মাইক্রো টানেলিংয়ের কাজ শেষ হবে। জমা জলের সমস্যা থাকবে না। কিন্তু বাস্তবটা চিত্র অন্য। মঙ্গলবার সি রোডের বামুনগাছিতে গিয়ে দেখা গিয়েছে, মাইক্রো টানেল বানানোর জন্য নিয়ে আসা বড় আকারের পাইপ রাস্তার পাশে পড়ে রয়েছে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, জমির কিছু সমস্যা ও প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে টানেল খোঁড়া হলেও পাইপলাইন বসানো যাচ্ছে না। এদিন কেএমডিএ’র একটি বিশেষজ্ঞ দল ও হাওড়া পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররা ঘটনাস্থলে যায়। দু’দিনের মধ্যে মাইক্রো টানেলিংয়ের কাজ হবে বলে আবার আশার কথা শুনিয়েছে পুরসভা। পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী বলেন, ‘সি রোডের বিভিন্ন এলাকা থেকে জমা জল সরানোর জন্য বিকল্প চেষ্টা হচ্ছে। তাতে জল অনেকটা নামছে।’ পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, সি রোড ও বি সংযোগকারী হাইড্রেন এতদিন সংস্কারের অভাবে প্রায় মজে গিয়েছিল। এবার ড্রেনের আবর্জনা সরিয়ে পরিষ্কার করার কাজ হয়েছে। ফলে সি রোডের জমা জল বি রোড হয়ে অক্সিডেশন পুকুরে ফেলা যাচ্ছে। কিন্তু বাসিন্দাদের অভিযোগ, মাঝেমধ্যেই নোংরা জলে ভরে উঠছে এলাকা। ফলে অসহনীয় গরম আর জমা জলের পচা দুর্গন্ধে গোটা এলাকা যেন হয়ে গিয়েছে আস্ত একটি ভাগাড়।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ