Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সামসি রেলগেটে নরক যন্ত্রণা, ফ্লাইওভার চান বাসিন্দারা

চারটি বিধানসভার কয়েক লক্ষ মানুষের পথের কাঁটা মালদহের সামসি রেলগেট।

সামসি রেলগেটে নরক যন্ত্রণা, ফ্লাইওভার চান বাসিন্দারা
  • ১ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, চাঁচল: চারটি বিধানসভার কয়েক লক্ষ মানুষের পথের কাঁটা মালদহের সামসি রেলগেট। দশকের পর দশক চাঁচল, হরিশ্চন্দ্রপুর, মালতীপুর ও রতুয়া বিধানসভার বাসিন্দারা রোজই এই রেলগেটে গিয়ে থমকে যান। সামসি যাওয়ার আগে প্রার্থনা করেন, যেন রেলগেট না বন্ধ থাকে।

Advertisement


সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন রতুয়া বিধানসভা এলাকার মানুষজন। কারণ সামসি সদর এলাকায় রয়েছে দু’টি হাইস্কুল। রেলগেট পড়লেই বহু ছাত্রছাত্রী আটকে যায়। পরীক্ষার দিন হলে আরও খারাপ হয় পরিস্থিতি। রেললাইনের উত্তর প্রান্তে সামসি গ্রামীণ হাসপাতাল। দক্ষিণ প্রান্তে রতুয়ার একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েত। জরুরি অবস্থায় রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হলে অ্যাম্বুলেন্সও দীর্ঘসময় আটকে পড়ে। প্রতি বৃহস্পতিবার রেলগেট থেকে মাত্র পাঁচশো মিটার দূরে বসে সাপ্তাহিক হাট। ওই দিন মানুষের ভিড় ও যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। রেলগেট বন্ধ থাকলে দুই প্রান্তের সড়কে প্রায় এক কিলোমিটার লম্বা যানজট তৈরি হয়। গেট খোলার পর সবাই একসঙ্গে যাওয়ার চেষ্টা করতেই ঘটে ছোটখাট দুর্ঘটনা।
রতুয়ার মিসবাহুল আলম জেমস বলেন, হাসপাতালে রোগী নিয়ে যাওয়ার সময় রেলগেট পড়ায় অ্যাম্বুলেন্স আটকে থাকে। চোখের সামনে সেই অসহায় পরিস্থিতি দেখেও কিছু করার থাকে না। ফ্লাইওভার ছাড়া এই সমস্যার সমাধান হবে না।


স্থানীয় বাসিন্দা সুভাষ মিশ্রর কথায়, হাটের দিন রেলগেটের দুই প্রান্তে অন্তত এক কিলোমিটার পর্যন্ত গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকে। গেট খোলার সঙ্গে সঙ্গে হুড়োহুড়ি শুরু হলে দুর্ঘটনা ঘটে। ফ্লাইওভার হলে সবাই উপকৃত হবেন।
উত্তর মালদহের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু বলেন, ফ্লাইওভার নির্মাণে ৪০ শতাংশ বরাদ্দ রাজ্যের দেওয়া উচিত, সেটা দেয়নি। ১০০ শতাংশ বরাদ্দ কেন্দ্রই বহন করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। রাজ্য সরকার জমি দিলেই কাজ শুরু হবে।
পাল্টা মালদহ জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা মালতীপুরের বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সি বলেন, রাজ্যের কাছে জমি চেয়ে কোনও চিঠি দেওয়া হয়নি। বিধানসভা ভোটের আগে মানুষকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন সাংসদ। কেন্দ্র ফ্লাইওভার নির্মাণের উদ্যোগ নিলে রাজ্য অবশ্যই জমি দেবে। বিজেপি প্রতিবার ভোটের আগে মানুষকে বোকা বানায়। এবারও সেটা করা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ