নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর ও বারাকপুর: কলকাতা শহরের মতো প্রবল বর্ষণে বিপর্যস্ত উত্তর শহরতলি। রাস্তায় কোমর সমান জলে লন্ডভন্ড বহু এলাকা। বিপর্যস্ত গণপরিবহণ ব্যবস্থা। সব মিলিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার নিত্যযাত্রীরা। বাগজোলা খালের নোংরা জল উপচে প্লাবিত বিস্তীর্ণ এলাকা। বহু পুজোমণ্ডপ জলে ভাসছে। স্বভাবতই মাথায় হাত উদ্যোক্তাদের। এদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত বিটি রোডসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে জল না-নামায় তীব্র দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন সাধারণ মানুষ।
মঙ্গলবার ভোর রাত থেকেই বিটি রোডের ঘোষপাড়া এলাকা থেকে ডানলপগামী লেন জলের তলায় চলে যায়। বরানগর থানা, টবিন রোড মোড়, বনহুগলি মোড়ের বিটি রোডে হাঁটু থেকে কোমর সমান জল দাঁড়ায়। বিটি রোডে সংযোগকারী সমস্ত রাস্তার পরিস্থিতি ছিল আরও বেহাল। বিভিন্ন বাজার, আবাসন ও বাড়িতেও জল ওঠে। বিটি রোডে কামারহাটি ও পানিহাটির দিকে যত এগোনো গিয়েছে পরিস্থিতি ততই ভয়াবহ হয়েছে। পানিহাটির এইচবি টাউন, আগরপাড়াতেও জল থই থই অবস্থা। রাস্তার ধারে জমা নোংরা ও ড্রেনের জল রাস্তায় উঠে যাওয়ায় নরককুণ্ড অবস্থা। কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে লাগোয়া উত্তর দমদমের নিমতা, খড়দহসহ বিভিন্ন পুরসভা ও পঞ্চায়েত এলাকায় জল যন্ত্রণায় নাজেহাল হতে হয়। বাগজোলা খালের জল উপচে যায়। দমদম রোডে হনুমান মন্দির লাগোয়া বাগজোলা খালের ব্রিজে জল লেগে যায়। ফলে খালের দু-দিকের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে বিভিন্ন জায়গা এদিন জলমগ্ন ছিল। বিশেষ করে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে লাগোয়া মোহনপুর, ওয়ারলেস মোড়, রবীন্দ্রপল্লিতে জল দাঁড়িয়ে যায়।
প্রবল বৃষ্টির জেরে সকালে ট্রেন ও বাস পরিষেবা থমকে যায়। শিয়ালদা-রানাঘাট মেইন লাইনে সমস্ত ট্রেন দেরিতে চলাচল করে। বারাকপুর লোকাল, নৈহাটি লোকাল, কল্যাণী সীমান্ত লোকাল সকালের দিকে বাতিল করা হয়। এসি ট্রেনও চলেনি। মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। গন্তব্যে পৌঁছোতে সাধারণ মানুষ স্টেশন ছেড়ে বিটি রোডে আসেন। কিন্তু বাস কম চলায় চূড়ান্ত দুর্ভোগ পোহাতে হয়। প্রচুর মানুষ অটো, বাস ও ম্যাটাডরে চেপে গন্তব্যে পৌঁছোয়। পরিস্থিতির ফায়দা নিয়ে এদিন অটো চালকরা ভাড়া কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেন বলে অভিযোগ।
অন্যদিকে, টিটাগড় পুরসভার বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন থাকায় বিজেপি এপি দেবী রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায়। জমে থাকা জলে জাল ফেলে এবং কাগজের নৌকা ভাসিয়ে অভিনব প্রতিবাদ কর্মসূচি করে তারা।