


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভোরের দিকে তুমুল বৃষ্টি। তারপর খানিক বিরতি দিয়ে দুপুর থেকে ফের দফায় দফায় কোথাও ভারী, কোথাও ঝিরঝির করে বর্ষণ। তার ফলে মঙ্গলবার সকাল থেকেই দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে কলকাতার বাসিন্দাদের। অফিস বা শিশুদের স্কুলে পৌঁছে দিতে সমস্যায় পড়তে হয়েছে বহু মানুষকে। বাইপাস, বেহালায় বিক্ষিপ্তভাবে জল জমেছে বলে অভিযোগ। তবে কলকাতার মূল রাস্তাগুলিতে জল জমার ছবি দেখা যায়নি বলে পুরসভার দাবি।
জল জমার কারণে সকাল থেকেই শহরে গাড়ি ধীরগতিতে চলেছে। যাত্রীবাহী পরিবহণ পেতে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছে যাত্রীদের। বিকেলেও ভোগান্তি ছিল অব্যাহত। রাস্তায় প্রবল যানজট। বিকেলের পর বৃষ্টি কমে। পুরসভার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভোর তিনটে থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত বেশি পরিমাণ বৃষ্টি হয় যোধপুর পার্ক পাম্পিং স্টেশন এলাকায়। হয়েছে ৮৫ মিমি বৃষ্টিপাত। উত্তর ও মধ্য কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিট, মুক্তারামবাবু স্ট্রিট, মহাত্মা গান্ধী রোড, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, চাঁদনি চক মেট্রো স্টেশনের সামনের অংশ, ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি, বি বি গাঙ্গুলি স্ট্রিট, কলেজ স্ট্রিট, স্ট্র্যান্ড রোড, গণেশচন্দ্র অ্যাভিনিউ, কেশবচন্দ্র সেন স্ট্রিট, রাজা রামমোহন রায় সরণিতে বিকেলের বৃষ্টিতে জল জমে যায়। গঙ্গার লকগেট খুলে দেওয়ার কারণে সন্ধ্যার মধ্যে জল নেমে গিয়েছে বলে দাবি পুরসভার। তবে মানুষের অভিযোগ, বিকেলে দীর্ঘক্ষণ সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ে জলের কারণে বাড়ি ফেরার পথে নাজেহাল হতে হয়েছে। দমদমের বাসিন্দা খোকন দাস বলেন, ‘জল ঠেলে চাঁদনি থেকে গিরীশ পার্ক যেতেই বাসে আধ ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে।’ এছাড়া যাদবপুর থানা থেকে অভিষিক্তা যাওয়ার রাস্তায় ছিল জল। বাইপাসের হাইল্যান্ড পার্ক এলাকাও সকাল থেকে জল থই থই। যোধপুর পার্ক, লেক গার্ডেন্সের বিস্তীর্ণ অংশে অলিগলিতে জল জমে ছিল।
গত কয়েকদিন ধরে টানা বর্ষণে শহরের বহু দোকানদার এবং হকারের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি। টানা ক’দিন এমন দফায় দফায় বৃষ্টির জেরে ব্যবসা মার খাচ্ছে বলে জানান দোকানদাররা। হাতিবাগানের কাপড়ের ব্যবসায়ী রঞ্জন রায় বলেন, ‘এক সপ্তাহ ধরে কার্যত ব্যবসা হচ্ছে না। দুপুরের পর ভিড়ের সময়ই বৃষ্টি। জল জমছে। কেউ কেনাকাটা করতে আসছেন না।’ উত্তর কলকাতার শ্যামবাজারের বাসিন্দা সুদেষ্ণা ঘোষ বলেন, ‘গত ক’দিন ধরেই এমন ওয়েদার। যখন তখন বৃষ্টি নামছে। বাচ্চাদের স্কুলে বা পড়াতে নিয়ে যেতে খুব সমস্যা হচ্ছে।’